লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ঘুষ লেনদেন ও কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের এই ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ভিডিওর কিছু অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, কোনো এক কারণে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (এসি) রাজি হয়ে গেছেন। তিনি নিজে ২ কোটি টাকার কমে কোনোভাবেই রাজি হবেন না। প্রয়োজনে চেয়ারম্যানের কাছেও যাবেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিলের জন্য ২ কোটি টাকা নিলেও চেয়ারম্যান তাঁর বিরুদ্ধে যাবেন না; বরং তাঁকে পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং দেবেন।
ভিডিওতে তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ৩ লাখ টাকার কাজে ৩০ লাখ টাকার মালামাল দেখানো হয়েছে। এ হিসাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছেন। সেই ৫ কোটি টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পেলে তিনি সব কাগজে সই করে দেবেন বলেও বলেন।
ভিডিওর অন্য অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা নিতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্ট নয়, তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি অংশে নির্বাহী প্রকৌশলী জানতে চান, টাকার পরিমাণ কত। এক ব্যক্তি উত্তরে বলেন, ৩৫ হাজার টাকা। নির্বাহী প্রকৌশলী তখন বলেন, তাহলে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার। ওই ব্যক্তি জানান, আগে তিনি ১ লাখ টাকা দিয়েছেন।
ভিডিওটি কতদিন আগের এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির সত্যতা ও প্রকৃত প্রেক্ষাপটও এখনো যাচাই হয়নি।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুল আমিনের দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠা মাত্রই কেউ দোষী প্রমাণিত হন না। তবে ভিডিওতে উঠে আসা বক্তব্য ও লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি উঠতে পারে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















