ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারত ও মিয়ানমার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেতাগীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর তিন দাঁত ভাঙার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড নিয়ে স্বজনপ্রীতি করলেই মামলা: ডেপুটি স্পিকার পবিপ্রবিতে ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগে গবেষণাগার উদ্বোধন করলেন পবিপ্রবি উপাচার্য মৃত্যুফাঁদে বড়লেখা পৌর মার্কেট, জীবনের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা ভৈরবে জে.আই. ইমপেক্সে ৩৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, জব্দ বিপুল নথি বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সুপারিশ সম্মাননা স্মারক পেলেন নীলফামারীর সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রাজু কুমিল্লায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট হোসনে আরা বকুল গ্রেপ্তার
বনের রক্ষক যখন ভক্ষক

বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পার্বত্য অঞ্চল বান্দরবান জেলায় বন নিধনযজ্ঞ চলছে। এই নিধনযজ্ঞ চলছে খোদ বান্দরবান বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে। দীর্ঘদিন ধরে বনে নিধনযজ্ঞ চললেও নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক বিতর্কিত বন সংরক্ষক (সিএফ) মোল্যা রেজাউল করিমকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার চেয়ার বাগিয়ে নেন মো. সাইফুল ইসলাম। সেই বন সংরক্ষকের প্রশ্রয় পেয়ে সাইফুল ইসলাম বান্দরবান বন বিভাগে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। তার তদারকিতে চলছে বান্দরবানে বনের গাছ অবাধে কর্তন, ভুয়া টিপি (চলাচল পাস), গাছ পাচার ও পোস্টিং বাণিজ্য।

অনুসন্ধান বলছে, বান্দরবানে বিভিন্ন লোভনীয় পোস্টিংয়ে ঘুষের রেট নির্ধারিত। বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও স্টেশনে পোস্টিং পেতে গুনতে হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। রেঞ্জ সহযোগী ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। ফরেস্ট গার্ডদের সদর রেঞ্জ ও স্টেশনে পোস্টিংয়ে নির্ধারিত ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঘুষের তালিকায় রয়েছে টিপি প্রতি ১৩ হাজার টাকা। সেখান থেকে ডিএফওর ভাগে ২৩০০ টাকা, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ৬০০ টাকা, রেঞ্জ অফিসার ৮০০ টাকা, অফিস সেকশন ৬০০ টাকা, ফরেস্টার ২৬০০ টাকা, ফরেস্ট গার্ড ২৫০০ টাকা। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সদর রেঞ্জের টিপি শাখায় টিপির ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।

এ ছাড়া স্টক চেকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে মোট ৯ টাকা। ভাগবাটোয়ারায় রেঞ্জ অফিসার পান ২ টাকা, ডিএফও ৬ টাকা, অফিস ১ টাকা। জোত পারমিটের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এর মধ্যে ডিএফও ১৭ টাকা, রেঞ্জ অফিসার ২০ টাকা, স্টাফ ও ফরেস্টার ৫ টাকা, অফিস এবং অন্যান্য ১৩ টাকা হারে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। পারমিটের পর ট্রাকপ্রতি কাঠ লোড করতে বন বিভাগকে ঘুষ দিতে হয় ২৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনের গাছ বৈধ টিপির আড়ালে অবৈধভাবে পাচার করতে গেলে সুয়ালক চেক স্টেশনে ট্রাকপ্রতি দিতে হয় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বান্দরবানে দেড় শতাধিক কাঠ ব্যবসায়ী রয়েছেন। লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন ব্যবসায়ীর কাঠ বৈধ টিপির আড়ালে পাচার করা হবে। পরবর্তীতে সেই লটারির তালিকা ট্রাক লোডের আগেই পৌঁছে দেওয়া হয় বান্দরবান বন বিভাগে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন বিভাগ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টাকা নেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ সরাসরি আসেনি, তবে দুই-একটি পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি পুরো বন বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সব জায়গায় সতর্কবার্তা দিয়েছি, যেন কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে কেউ জড়িয়ে না পড়ে। দুর্নীতির প্রশ্নে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারত ও মিয়ানমার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বনের রক্ষক যখন ভক্ষক

বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:২৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পার্বত্য অঞ্চল বান্দরবান জেলায় বন নিধনযজ্ঞ চলছে। এই নিধনযজ্ঞ চলছে খোদ বান্দরবান বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে। দীর্ঘদিন ধরে বনে নিধনযজ্ঞ চললেও নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক বিতর্কিত বন সংরক্ষক (সিএফ) মোল্যা রেজাউল করিমকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার চেয়ার বাগিয়ে নেন মো. সাইফুল ইসলাম। সেই বন সংরক্ষকের প্রশ্রয় পেয়ে সাইফুল ইসলাম বান্দরবান বন বিভাগে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। তার তদারকিতে চলছে বান্দরবানে বনের গাছ অবাধে কর্তন, ভুয়া টিপি (চলাচল পাস), গাছ পাচার ও পোস্টিং বাণিজ্য।

অনুসন্ধান বলছে, বান্দরবানে বিভিন্ন লোভনীয় পোস্টিংয়ে ঘুষের রেট নির্ধারিত। বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও স্টেশনে পোস্টিং পেতে গুনতে হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। রেঞ্জ সহযোগী ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। ফরেস্ট গার্ডদের সদর রেঞ্জ ও স্টেশনে পোস্টিংয়ে নির্ধারিত ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঘুষের তালিকায় রয়েছে টিপি প্রতি ১৩ হাজার টাকা। সেখান থেকে ডিএফওর ভাগে ২৩০০ টাকা, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ৬০০ টাকা, রেঞ্জ অফিসার ৮০০ টাকা, অফিস সেকশন ৬০০ টাকা, ফরেস্টার ২৬০০ টাকা, ফরেস্ট গার্ড ২৫০০ টাকা। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সদর রেঞ্জের টিপি শাখায় টিপির ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।

এ ছাড়া স্টক চেকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে মোট ৯ টাকা। ভাগবাটোয়ারায় রেঞ্জ অফিসার পান ২ টাকা, ডিএফও ৬ টাকা, অফিস ১ টাকা। জোত পারমিটের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এর মধ্যে ডিএফও ১৭ টাকা, রেঞ্জ অফিসার ২০ টাকা, স্টাফ ও ফরেস্টার ৫ টাকা, অফিস এবং অন্যান্য ১৩ টাকা হারে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। পারমিটের পর ট্রাকপ্রতি কাঠ লোড করতে বন বিভাগকে ঘুষ দিতে হয় ২৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনের গাছ বৈধ টিপির আড়ালে অবৈধভাবে পাচার করতে গেলে সুয়ালক চেক স্টেশনে ট্রাকপ্রতি দিতে হয় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বান্দরবানে দেড় শতাধিক কাঠ ব্যবসায়ী রয়েছেন। লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন ব্যবসায়ীর কাঠ বৈধ টিপির আড়ালে পাচার করা হবে। পরবর্তীতে সেই লটারির তালিকা ট্রাক লোডের আগেই পৌঁছে দেওয়া হয় বান্দরবান বন বিভাগে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন বিভাগ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টাকা নেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ সরাসরি আসেনি, তবে দুই-একটি পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি পুরো বন বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সব জায়গায় সতর্কবার্তা দিয়েছি, যেন কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে কেউ জড়িয়ে না পড়ে। দুর্নীতির প্রশ্নে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।’