ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৮:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া। অন্য তিন বিজয়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তারা হলেন- তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে- একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জামায়াত আমির বলেন, গতকাল জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের প্রতি দ্রুত তাদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থাসহ অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনার আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা

আপডেট সময় ০৮:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া। অন্য তিন বিজয়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তারা হলেন- তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে- একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জামায়াত আমির বলেন, গতকাল জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের প্রতি দ্রুত তাদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থাসহ অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনার আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।