ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি : প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০ মুকসুদপুরে সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখলের অভিযোগ বোরহানউদ্দিনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি জিয়া ‍উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী চীনে অনিশ্চয়তা, ভারতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের ৫০ বছরপূর্তি, কর্মসূচি নির্ধারণে জেলা-উপজেলা সাংবাদিকদের প্রস্তুতি সভা বাবা-মায়ের দেওয়া নাম বদলে চলচ্চিত্রে তারকা পরিচিতি পেয়েছেন যেসব অভিনেত্রী

রাজধানীর আরামবাগ-ফকিরাপুলে অবৈধ বাস টার্মিনালের আড়ালে কোটি টাকার বাণিজ্য

রাজধানীর আরামবাগ-ফকিরাপুলে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাস টার্মিনাল। এই টার্মিনাল ঘিরে শতাধিত কাউন্টার রয়েছে। এসব কাউন্টার থেকে দিনে পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রধান সড়ক ব্যবহার করে যাত্রী উঠানামার কাজ চলে। এতে তৈরি হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অবৈধ এ টার্মিনাল বন্ধ করতে সরকারসংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সরকারের নিয়মনীতি ও নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিন দিন টার্মিনাল বড় করা হচ্ছে। আর এই টার্মিনাল থেকে ব্যানার মালিক ও পরিবহণ নেতারা কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন। এই অর্থের বড় অংশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তি, ঢাকা সড়ক-পরিবহণ মালিক সমিতি ও ট্রাফিক পুলিশের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সরকারপ্রধান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন। যেখানে বৈধ টার্মিনাল সরানোর চেষ্টা করছে সরকার; সেখানে আরামবাগ-ফকিরাপুল এলাকায় অবৈধ বাস টার্মিনাল আরও বড় হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আরামবাগ-ফকিরাপুল এলাকার দুই পাশের শতাধিক কাউন্টার থেকে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, টেকনাফ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে চলাচল করছে। বিকালের দিকে প্রধান সড়কে বাড়তে থাকে সারিবদ্ধ বাসের সংখ্যা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রধান সড়কে বাস রেখে যাত্রী তোলা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা বেড়ে যায়। রাত যত গভীর হয়-নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও শাপলা চত্বর এলাকা হয়ে ওঠে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল। প্রধান সড়কে বাসগুলো অবস্থানে নেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে-আরামবাগ-ফকিরাপুল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করা প্রতিটি বাস থেকে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকা আদায় করা হয়। মূলত কাউন্টার ভাড়া, টিকিট তৈরির খরচ, কর্মচারীদের বেতন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজের নামে এ টাকা তোলেন ব্যানার মালিকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব উদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘একটা সময় ব্যানার মালিকরা অনেক টাকা নিতেন। বর্তমানে শুধু কাউন্টার ভাড়া, টিকিট তৈরির খরচ, কর্মচারীদের বেতনের জন্য অল্পকিছু টাকা নেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বাবুর দাবি, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ছিনতাইসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু আরামবাগ থেকে রাতের ভ্রমণে নিরাপদ বোধ করেন যাত্রীরা। ফলে অনুমোদন না থাকলেও এখানে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরি করা হয়েছে। সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিলে নির্ধারিত স্থানে ফিরবেন তারা। তার ভাষ্যমতে, বাস টার্মিনাল নয়-সিটি বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশা ও অন্য পরিবহণের কারণে আরামবাগে যানজট হয়। তারপরও যানজট নিরসনে টার্মিনাল স্থানান্তরে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে-টার্মিনাল স্থানান্তরের আগে আমাদের ভালো জায়গা করে দিতে হবে। যেখানে আমাদের পরিবহণ ও যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা থাকবে।

সরকারের অনুমোদন না থাকলেও আরামবাগে কেন বাস টার্মিনাল গড়ে উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি (ট্রাফিক) মো. আমীর খসরু বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকার ভেতরে কোনো টার্মিনাল থাকবে না। সব টার্মিনাল সরিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুধু আরামবাগ নয়, কোনো টার্মিনাল থেকে ট্রাফিক পুলিশ টাকা নেয় না। যদি কেউ টাকা নেয়- প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার

রাজধানীর আরামবাগ-ফকিরাপুলে অবৈধ বাস টার্মিনালের আড়ালে কোটি টাকার বাণিজ্য

আপডেট সময় ১২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর আরামবাগ-ফকিরাপুলে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাস টার্মিনাল। এই টার্মিনাল ঘিরে শতাধিত কাউন্টার রয়েছে। এসব কাউন্টার থেকে দিনে পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রধান সড়ক ব্যবহার করে যাত্রী উঠানামার কাজ চলে। এতে তৈরি হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অবৈধ এ টার্মিনাল বন্ধ করতে সরকারসংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সরকারের নিয়মনীতি ও নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিন দিন টার্মিনাল বড় করা হচ্ছে। আর এই টার্মিনাল থেকে ব্যানার মালিক ও পরিবহণ নেতারা কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন। এই অর্থের বড় অংশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তি, ঢাকা সড়ক-পরিবহণ মালিক সমিতি ও ট্রাফিক পুলিশের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সরকারপ্রধান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন। যেখানে বৈধ টার্মিনাল সরানোর চেষ্টা করছে সরকার; সেখানে আরামবাগ-ফকিরাপুল এলাকায় অবৈধ বাস টার্মিনাল আরও বড় হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আরামবাগ-ফকিরাপুল এলাকার দুই পাশের শতাধিক কাউন্টার থেকে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, টেকনাফ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে চলাচল করছে। বিকালের দিকে প্রধান সড়কে বাড়তে থাকে সারিবদ্ধ বাসের সংখ্যা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রধান সড়কে বাস রেখে যাত্রী তোলা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা বেড়ে যায়। রাত যত গভীর হয়-নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও শাপলা চত্বর এলাকা হয়ে ওঠে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল। প্রধান সড়কে বাসগুলো অবস্থানে নেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে-আরামবাগ-ফকিরাপুল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করা প্রতিটি বাস থেকে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকা আদায় করা হয়। মূলত কাউন্টার ভাড়া, টিকিট তৈরির খরচ, কর্মচারীদের বেতন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজের নামে এ টাকা তোলেন ব্যানার মালিকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব উদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘একটা সময় ব্যানার মালিকরা অনেক টাকা নিতেন। বর্তমানে শুধু কাউন্টার ভাড়া, টিকিট তৈরির খরচ, কর্মচারীদের বেতনের জন্য অল্পকিছু টাকা নেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বাবুর দাবি, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ছিনতাইসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু আরামবাগ থেকে রাতের ভ্রমণে নিরাপদ বোধ করেন যাত্রীরা। ফলে অনুমোদন না থাকলেও এখানে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরি করা হয়েছে। সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিলে নির্ধারিত স্থানে ফিরবেন তারা। তার ভাষ্যমতে, বাস টার্মিনাল নয়-সিটি বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশা ও অন্য পরিবহণের কারণে আরামবাগে যানজট হয়। তারপরও যানজট নিরসনে টার্মিনাল স্থানান্তরে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে-টার্মিনাল স্থানান্তরের আগে আমাদের ভালো জায়গা করে দিতে হবে। যেখানে আমাদের পরিবহণ ও যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা থাকবে।

সরকারের অনুমোদন না থাকলেও আরামবাগে কেন বাস টার্মিনাল গড়ে উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি (ট্রাফিক) মো. আমীর খসরু বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকার ভেতরে কোনো টার্মিনাল থাকবে না। সব টার্মিনাল সরিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুধু আরামবাগ নয়, কোনো টার্মিনাল থেকে ট্রাফিক পুলিশ টাকা নেয় না। যদি কেউ টাকা নেয়- প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।