ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি : প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০ মুকসুদপুরে সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখলের অভিযোগ বোরহানউদ্দিনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি জিয়া ‍উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী চীনে অনিশ্চয়তা, ভারতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের ৫০ বছরপূর্তি, কর্মসূচি নির্ধারণে জেলা-উপজেলা সাংবাদিকদের প্রস্তুতি সভা বাবা-মায়ের দেওয়া নাম বদলে চলচ্চিত্রে তারকা পরিচিতি পেয়েছেন যেসব অভিনেত্রী

স্ত্রীর শেষ কথাই এখন স্মৃতি, বন্যায় নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে নেপালে প্রমোদ

নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সদ্যবিবাহিত স্ত্রীসহ স্বজনদের খোঁজে যুক্তরাজ্য থেকে নেপালে ছুটে এসেছেন ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল। স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটার সঙ্গে ফোনে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রমোদ পোদেলের জন্ম নেপালের ‘সোলে’ গ্রামের একটি পরিবারে। সেখানেই শৈশব ও কৈশোর কেটেছে তার। ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে নেপালি স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি।

মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করেছিলেন প্রমোদ। বিয়ের পর স্ত্রী সুমিত্রা নেপালেই প্রমোদের পরিবারের সঙ্গে থাকছিলেন। খুব শিগগিরই তার যুক্তরাজ্যে স্বামীর কাছে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মুহূর্তেই ভেসে গেছে সেই স্বপ্ন।

বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর নেপালের উদ্দেশে রওনা হন প্রমোদ। মেট্রো ইউকে-কে তিনি জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। সেই ফোনালাপে সুমিত্রা তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপর থেকেই স্ত্রীর সেই শেষ কথাগুলো বারবার তার কানে বাজছে।

পরিবারের জন্য এই দুঃসময়ে প্রমোদের একমাত্র স্বস্তির খবর, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেল প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ।

নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন প্রমোদ। দ্য সানকে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’

এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে প্রমোদ বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পরিবার এবং আমার দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়, তবে সেখানে আসলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে যেতে হবে।’

বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। স্পষ্টতই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং কারা নিখোঁজ হয়েছেন বা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সব সেতু ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতেরও কোনো উপায় নেই।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রমোদ জানান, সেখানে বিদ্যুৎও নেই। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কী ঘটছে, তা জানতে না পারাটাই তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয়গুলোর একটি।

নেপালে পৌঁছানোর পর সংবাদমাধ্যমকে প্রমোদ জানান, বন্যা ও কাদাঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাদের পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এমনকি যেখানে তাদের বাড়ি ছিল, সেখানেও এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। পুরো সোলে গ্রামটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার

স্ত্রীর শেষ কথাই এখন স্মৃতি, বন্যায় নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে নেপালে প্রমোদ

আপডেট সময় ১২:০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সদ্যবিবাহিত স্ত্রীসহ স্বজনদের খোঁজে যুক্তরাজ্য থেকে নেপালে ছুটে এসেছেন ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল। স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটার সঙ্গে ফোনে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রমোদ পোদেলের জন্ম নেপালের ‘সোলে’ গ্রামের একটি পরিবারে। সেখানেই শৈশব ও কৈশোর কেটেছে তার। ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে নেপালি স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি।

মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করেছিলেন প্রমোদ। বিয়ের পর স্ত্রী সুমিত্রা নেপালেই প্রমোদের পরিবারের সঙ্গে থাকছিলেন। খুব শিগগিরই তার যুক্তরাজ্যে স্বামীর কাছে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মুহূর্তেই ভেসে গেছে সেই স্বপ্ন।

বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর নেপালের উদ্দেশে রওনা হন প্রমোদ। মেট্রো ইউকে-কে তিনি জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। সেই ফোনালাপে সুমিত্রা তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপর থেকেই স্ত্রীর সেই শেষ কথাগুলো বারবার তার কানে বাজছে।

পরিবারের জন্য এই দুঃসময়ে প্রমোদের একমাত্র স্বস্তির খবর, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেল প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ।

নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন প্রমোদ। দ্য সানকে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’

এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে প্রমোদ বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পরিবার এবং আমার দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়, তবে সেখানে আসলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে যেতে হবে।’

বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। স্পষ্টতই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং কারা নিখোঁজ হয়েছেন বা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সব সেতু ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতেরও কোনো উপায় নেই।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রমোদ জানান, সেখানে বিদ্যুৎও নেই। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কী ঘটছে, তা জানতে না পারাটাই তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয়গুলোর একটি।

নেপালে পৌঁছানোর পর সংবাদমাধ্যমকে প্রমোদ জানান, বন্যা ও কাদাঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাদের পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এমনকি যেখানে তাদের বাড়ি ছিল, সেখানেও এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। পুরো সোলে গ্রামটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।