রাজধানী মিরপুর কালশীর আর্থ অ্যান্ড হ্যাভেন’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের সঙ্গে অসৈজন্যমূলক আচরণসহ নানা দুর্নীতি অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আর্থ অ্যান্ড হ্যাভেন নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষকদের কাছে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, চাকরিতে যোগদানের পর বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখা গেছে । একাধিক শিক্ষকের দাবি, তারা যথাযথভাবে নোটিশ পিরিয়ড বা প্রবেশন সংক্রান্ত শর্ত মেনে পদত্যাগ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বেতন আটকে রাখা হতো। আবার অনেক শিক্ষক দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করলেও তাদেরকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক শিক্ষক নিয়োগপত্র ছাড়াই সেখানে শিক্ষকতা করেন। আর অনেকেই চাকরি ছাড়তে চাইলে প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান নোটিশ পিরিয়ডের অজুহাতে বেতন আটকে রাখেন । অথচ নোটিশ পিরিয়ড সংক্রান্ত কোনো লিখিত চুক্তিই সম্পাদিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী শিক্ষক। আবার কোনো কারণ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে বেতন কেটে রেখেছেন এই প্রিন্সিপাল। এছাড়াও স্কুলের পড়ালেখার মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং সাবেক শিক্ষকরাই।
স্কুলটির কয়েকজন সাবেক শিক্ষক এসব বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, কদর জামিল নামের একজন শিক্ষক নিয়োগপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে চাকরি ছাড়তে চান। কিন্তু তাকে স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাকরি ছাড়তে হলে এক মাসের নোটিশ পিরিয়ডের শর্ত মানতে হবে। এরপর তিনি গত ২২ ফেব্রুয়ারি রিজাইন লেটার দেন এবং নোটিশ পিরিয়ডের শর্ত মতে গত ২২ মার্চ পর্যন্ত চাকরি করতে সম্মত হন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নিয়মের কথা বললেও পরে নিজেরাই সেই নিয়ম ভঙ্গ করে তাকে ৪ মার্চ চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলে। চুক্তি অনুযায়ী শিক্ষক কদর জামিল এক মাসের সম্পূর্ণ বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে মাত্র ১২ দিনের বেতন দেওয়া হয়। বাকি ১৮ দিনের বেতন পরিশোধ না করেই প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগি শিক্ষক।
এছাড়া সায়েম নামের অপর একজন শিক্ষক, চুক্তি অনুযায়ী ৬ মাসের প্রবেশনাল পিরিয়ড শেষ করেছেন। তার দাবি, প্রবেশনাল পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে কোন সময় রিজাইন নিতে পারবেন । তার সাথে ১ থেকে ২ মাসের নোটিশ পিরিয়ড চুক্তি ছিলো। তিনি বলেন, প্রবেশনাল পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তার চাকরি স্থায়ী করবে কিনা, সে বিষয়ে তাকে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে তিনি অনিশ্চয়তা ও দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেশন শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু কতৃপক্ষ ২মাসের নোটিশ পিরিয়ডের চুক্তি দেখিয়ে তার কোন কথা আমলে না নিয়ে বেতন থেকে পেনাল্টি হিসেবে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা কেটে রাখেন ।
রায়হান নামের অপর এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে করা চুক্তি ও কমিটমেন্টের কোনো মূল্যায়ন করেনি। তিনি বলেন, তিনি প্রবেশন পিরিয়ড সফলভাবে সম্পন্ন করে মোট ১ বছর ৬ মাস ওই স্কুলে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের তিন মাস পার হলেও কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো নিয়োগপত্র দেয়নি। পরে প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, নিয়োগের সময় কর্তৃপক্ষ তার বেতন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার বেতন বাড়ানো হয় মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, স্কুলে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য একটি অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষককে প্রথমে নিজের বিভিন্ন দক্ষতা ও যোগ্যতার বিষয়ে নিজেকেই নম্বর দিতে হতো। এরপর সেই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপাল নম্বর দিতেন। তার দাবি, ভাইস প্রিন্সিপাল কখনো তার কোনো ক্লাসে উপস্থিত হয়ে পাঠদান পর্যবেক্ষণ করেননি কিংবা তার শিক্ষাদানের মান যাচাই করেননি। তারপরও ভাইস প্রিন্সিপাল তাকে নেগেটিভ মার্কিং করেন। পরবর্তীতে সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তাকে এক মাসের সময় দিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এক মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগে স্কুলের কো-অর্ডিনেটর তাকে ডেকে বলেন, প্রিন্সিপাল স্যার গত এক মাস আপনাকে অবজারভেশন করেছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আপনার চাকরি নিয়মিত করা হবে। এ সময় শিক্ষক রায়হান কো-অর্ডিনেটরকে বলেন, আপনারা যদি আমার চাকরি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আমাকে রাখুন। কিন্তু যদি ১ বা ২ মাস পর আবার চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আমাকে এখনই বাদ দিয়ে দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করে যে, তার সঙ্গে করা কমিটমেন্ট ভঙ্গ করা হবে না এবং তাকে নিয়মিতভাবে চাকরিতে রাখা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস দেওয়ার প্রায় চার মাস পর কোনো কারণ বা লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয় । চাকরি ছাড়ার সময় তার পাওনা বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কম দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তাকে বলেন, বিষয়ে মিটিং করে পরে জানানো হবে, বাকি দুই হাজার টাকা দেওয়া হবে কি না। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ওই পাওনা টাকা আর দেওয়া হয়নি । এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানের আচার-আচরণ শিক্ষকদের প্রতি অত্যন্ত রূঢ় ও অপেশাদার ছিল। তার ভাষ্য, শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি সম্মানজনক ও পেশাদার আচরণ করতেন না, যার কারণে অনেক শিক্ষক মানসিকভাবে চাপে থাকতেন।
সাদিক নামের অপর একজন শিক্ষক জানান, তিনি গত ৪ এপ্রিল উক্ত স্কুলে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় যান, এসময় প্রিন্সিপাল তাকে ফোন করে জানান, তার চাকরি হয়েছে, পরেদিন অর্থাৎ গত ৫ এপ্রিল তাকে যোগদান করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্কুলে থাকতে হবে। আর প্রাথমিকভাবে ১৮ হাজার টাকা বেতন হবে। তিন মাসের প্রবেশন পিরিয়ড শেষে সন্তোষজনক হলে জুলাই মাস থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন হবে। আর সেখানে যোগদানের পর জুনায়েদ নামের একজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার জন্য বলা হয়। এই তিনটি বিষয়ই ছিল তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একমাত্র মৌখিক চুক্তি। এর ভিত্তিতেই তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। শিক্ষক সাদিক আরো বলেন, তিন মাস অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠান আমাকে কোনো সঠিক অফার লেটার প্রদান করেনি। একবার একটি অফার লেটার দেওয়া হলেও তাতে একাধিক গুরুতর ভুল ছিল। যোগদান সময় উল্লেখ করা হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬, অথচ আমি যোগদান করি ৪ এপ্রিল ২০২৬। মৌখিকভাবে প্রবেশন পিরিয়ড বলা হয়েছিল ৩ মাস, কিন্তু অফার লেটারে লেখা হয় ৬ মাস। দুই মাসের নোটিশ পিরিয়ড উল্লেখ করা হয়, যা কখনো আমার সঙ্গে আলোচনা বা চুক্তির অংশ ছিল না। বেতন ১৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল ছিল। এতগুলো অসঙ্গতির কারণে আমি ওই অফার লেটারে স্বাক্ষর করিনি এবং বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানাই। কো-অর্ডিনেটর আমাকে জানান যে, প্রিন্সিপাল স্যার বিদেশ সফরে আছেন, ফিরে এলে বিষয়টি সংশোধন করা হবে। পরে ভাইস প্রিন্সিপালকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমি সরাসরি প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কল করে দ্রুত সংশোধিত অফার লেটার দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু যোগদানের আড়াই মাস অতিক্রম হলেও সেটি আর প্রদান করেননি। এদিকে আমার প্রবেশন পিরিয়ডও শেষদিকে, এই সময়ের মধ্যেও আমাকে কোনো টিচার আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সাদিক আরও অভিযোগ করেন প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল তাকে ‘তুমি’ সম্বোধন করতেন যা একটি পেশাদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সম্বোধন তার কাছে আনপ্রফেশনাল ও অসম্মানজনক মনে হয়েছে। এছাড়া ভাইস প্রিন্সিপাল সীমা ছুটির দিনে রাত ১১টার দিকেও তাকে কাজের নির্দেশ দেন। আর তাকে বলা হয়, আমি যখন ইচ্ছা তখন তোমাকে কাজ দেওয়ার অধিকার রাখি। আর তিনি তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন। যার ফলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ও কর্তৃপক্ষকে অবহতি করেন । ফলে প্রিন্সিপাল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ও খারাপ আচরণ করেন এবং উল্টো জরিমানা দিতে বলেন। কারণ হিসাবে প্রিন্সিপাল বলেন চাকরি ছাড়তে হলে চুক্তিতে থাকা নোটিশ পিরিয়ড মানতে হবে। কিন্তু তাদের সাথে শিক্ষক সাদিকের কোনো নোটিশ পিরিয়ডের চুক্তি ছিলোনা। প্রিন্সিপালের কাছে তিনি প্রমাণ চাইলে প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তা দেখাতে পারেননি। ফলস্বরূপ প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তার সাথে উগ্র আচরণ করেন ও তার ২২ দিনের বেতন ১৩ হাজার ২০০ টাকা অনৈতিকভাবে কেটে রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষিকা বলেন, এই স্কুলে চাকরিতে যোগদানের কয়েক মাস পর আমি বিদেশে পড়াশোনার জন্য আবেদন করি ও অফারলেটারও পাই। পরে আমি কর্তৃপক্ষকে ২ মাস আগে জানাই ও বলি আমি ভিসার জন্য আবেদন করবো এবং বর্তমান সেশন শেষ করবো যাতে করে স্কুলের কোন ক্ষতি না হয়। কিন্তু পরবর্তী সেশন নাও করতে পারি যদি ভিসা হয়। প্রথমে প্রিন্সিপাল বা ভাইস প্রিন্সিপাল এর কোনো আপত্তি ছিলোনা বরং তারা আমাকে বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য উৎসাহিত করেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন ভাইস প্রিন্সিপাল আমাকে জানান আপনাকে আর আসতে হবে না। বিষয়টি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে আমি প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জানান আমি চুক্তি ভঙ্গ করেছি। কিন্তু আমার চুক্তিপত্রে এমন কোন চুক্তি ছিলো না যে আমি এখানে চাকরিকালীন অন্য কোথাও আবেদন করতে পারবোনা। চুক্তিতে এটা উল্লেখ ছিলো যে চাকরি ছাড়তে হলে ২ মাস আগে জানাতে হবে এবং সেটি আমি জানিয়েছি। তারপরও প্রিন্সিপাল আমার কোন কথা না শুনে আমাকে নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার পূর্বেই চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন ও আমার ২৩ দিনের বেতন দেয়। বাকি ৭ দিনের বেতনের কথা বললে আমাকে বলে যে কয়দিন কাজ করছো সেই কয়দিনের টাকা পাবা। কোন দোষ ছাড়া আমার বেতন কেটে রাখে ও তাদের স্যালারি নোটে স্বাক্ষর নিয়ে রাখে। পরবর্তীতে তাকে আমি অনাপত্তিপত্র দিতে বললে সে তা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
নারী শিক্ষিকা আরো জানান, প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্মোধন করতেন যা আমার কাছে আনপ্রফেশনাল মনে হয়েছে ও তিনি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করতেন। এছাড়াও শিক্ষিকা বলেন এখানে ক্যামব্রিজ কারিকুলাম ফলো করার কথা থাকলেও তাদের ইচ্ছে মতো পড়ানো হতো। এছাড়া তারা শিক্ষকদের ওভারটাইম কাজ করাতো যার ফলে কোন পারিশ্রমিক দিতোনা । তিনি আরোও বলেন, প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে শ্রেণীকক্ষ ডেকেরেশন করাতো। এমনকি এডমিনের কাজও তাদেরকে দিয়ে করানো হতো। এখানে তাদের কাজ বেশি করানো হতো বেতন কম দিয়ে।
এ ব্যাপারে স্কুলটির প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামান এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মোতাবেক স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। আর যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, এগুলো সব মিথ্যা। এক পর্যায়ে তিনি ফোনে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















