গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ফেনীতে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর ফেনী ইউনিট এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। পরে ফেনী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ২০১৪ সালে গুমের শিকার যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম। ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ কে এম আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল হক রবি, মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাপ্তাহিক আনন্দ তারকা সম্পাদক এম মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার ও লায়ন্স ক্লাব অব ফেনীর প্রেসিডেন্ট জাফর উল্লাহ।
অধিকার ফেনী ইউনিটের ফোকাল পার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সদস্য জাফর আহমদ ভূঁইয়া।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন, দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁইয়া, ফেনী সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফা মুহিত, এনজিও ফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা কাজী সালাউদ্দিন নোমান, ক্রীড়া সংগঠক ইমন উল হক, এবি যুব পার্টির ফেনী জেলা সদস্য সচিব ইব্রাহিম সোহাগ ও ফেনী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদুল হক খোকনসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলে রিপনকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তার মা রওশন আরা বেগম।
তিনি বলেন, “১২ বছর আগে ২০১৪ সালে আমার ছেলে যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে (র্যাব) তুলে নিয়ে যায়। এর পেছনে আওয়ামী লীগের ফেনীর এক প্রভাবশালী নেতা জড়িত।”
রওশন আরা অভিযোগ করেন, রিপন নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় মামলা পর্যন্ত নেয়নি পুলিশ। দীর্ঘ ১২ বছরেও তার ছেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
তিনি বলেন, “আমার মতো অভাগা মা গুমের শিকার ছেলের বিচার ও তাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। ১২ বছরেও বিচার পাইনি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমার ছেলের গুমের বিচার করবে—আমি সেই প্রত্যাশা করি।”
রিপনের মতো আর কোনো ব্যক্তি যাতে গুমের শিকার না হন, সে জন্য রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে গুমের শিকার যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা, ভাই, চাচাসহ পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মুস্তাফা মুহিত, ফেনী 






















