ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে পৌঁছাল সৌদিতে আগুনে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ

পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মরুর দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হলো কফিনবন্দি লাশ হয়ে। সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৪৩০’ ফ্লাইটে করে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। কফিনগুলো পৌঁছানোর পরপরই বিমানবন্দরে কান্না ও করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনেরা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে স্বজনদের মরদেহ নিয়ে রওনা দিয়েছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্বাসরুদ্ধ ও দগ্ধ হয়ে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। লাশগুলো চেনার উপায় না থাকায় পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রথম দফায় এই ৯ জনের লাশ দেশে পাঠানো হলো।

শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিন।

পরিবারের অভাব ঘোচানোর আশায় প্রবাসে যাওয়া এসব তরুণ ও উপার্জনক্ষম মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামগুলোতে এবং স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো এখন কেবল শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে পৌঁছাল সৌদিতে আগুনে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মরুর দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হলো কফিনবন্দি লাশ হয়ে। সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৪৩০’ ফ্লাইটে করে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। কফিনগুলো পৌঁছানোর পরপরই বিমানবন্দরে কান্না ও করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনেরা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে স্বজনদের মরদেহ নিয়ে রওনা দিয়েছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্বাসরুদ্ধ ও দগ্ধ হয়ে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। লাশগুলো চেনার উপায় না থাকায় পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রথম দফায় এই ৯ জনের লাশ দেশে পাঠানো হলো।

শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিন।

পরিবারের অভাব ঘোচানোর আশায় প্রবাসে যাওয়া এসব তরুণ ও উপার্জনক্ষম মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামগুলোতে এবং স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো এখন কেবল শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছে।