ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিএই’তে প্রধান সহকারী নাসির উদ্দীনের বদলি ঘিরে উত্তেজনা, নানা অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম : রিজভী নীলকুঞ্জ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও একজন সংবাদকর্মীর জাতীয় সম্মান প্রাপ্তি পিপিআর বিধিমালা ভেঙে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কামরুল- ফিরাদুলের পৌনে ৭ কোটি টাকা দুর্নীতি দুখু মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের শ্রদ্ধাঞ্জলি সৌদি থেকে আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে আজ কুমিল্লায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার নওগাঁর ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ 

বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ 

বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবশেষে ঢাকা মাতৃসদন শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বুধবার বিকেলে তাকে বরিশালের আগৈলঝাড়া ছোটমনি নিবাস থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেল গাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা নবজাতক ওই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ সময় দেখা যায়, শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি; নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল। বিষয়টি জানার পর বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক শিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপরে তাকে দেখভাল করার জন্য বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছোটমনি নিবাসে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্য থেকে জীবিত মিশু উদ্ধারের খবরটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন। পরে তিনি সরাসরি ওই শিশুটির উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদকে ফোন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা শিশু সদন হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করেন বিভাগীয় কমিশনার।
পরে শিশুটিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে সড়ক পথে উন্নত অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বিভাগীয় কমিশনার । বিকেল সাড়ে ৪টায় আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির নেতৃত্বে একজন চিকিৎসক এবং একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, বিভাগীয় কমিশনার সারের নির্দেশে বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একজন চিকিৎসক, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, সদ্যোজাত একটি শিশুকে এভাবে ব্যাগের মধ্যে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যে শিশুটি পৃথিবীতে আসার পর মায়ের বুকের উষ্ণতা, নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসা পাওয়ার কথা, তাকে এভাবে পরিত্যাগ করে নির্দয়ভাবে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে বাগানের মধ্যে ফেলে রাখা সত্যিই হৃদয় বিদারক।
শিশুটির পরিচয় ও তার জন্মদাতা মা-বাবার সন্ধান বের করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও আইনগত অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সচেতন মহল।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএই’তে প্রধান সহকারী নাসির উদ্দীনের বদলি ঘিরে উত্তেজনা, নানা অনিয়মের অভিযোগ

বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ 

আপডেট সময় ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবশেষে ঢাকা মাতৃসদন শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বুধবার বিকেলে তাকে বরিশালের আগৈলঝাড়া ছোটমনি নিবাস থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেল গাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা নবজাতক ওই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ সময় দেখা যায়, শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি; নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল। বিষয়টি জানার পর বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক শিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপরে তাকে দেখভাল করার জন্য বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছোটমনি নিবাসে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্য থেকে জীবিত মিশু উদ্ধারের খবরটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন। পরে তিনি সরাসরি ওই শিশুটির উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদকে ফোন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা শিশু সদন হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করেন বিভাগীয় কমিশনার।
পরে শিশুটিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে সড়ক পথে উন্নত অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বিভাগীয় কমিশনার । বিকেল সাড়ে ৪টায় আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির নেতৃত্বে একজন চিকিৎসক এবং একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, বিভাগীয় কমিশনার সারের নির্দেশে বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একজন চিকিৎসক, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, সদ্যোজাত একটি শিশুকে এভাবে ব্যাগের মধ্যে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যে শিশুটি পৃথিবীতে আসার পর মায়ের বুকের উষ্ণতা, নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসা পাওয়ার কথা, তাকে এভাবে পরিত্যাগ করে নির্দয়ভাবে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে বাগানের মধ্যে ফেলে রাখা সত্যিই হৃদয় বিদারক।
শিশুটির পরিচয় ও তার জন্মদাতা মা-বাবার সন্ধান বের করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও আইনগত অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সচেতন মহল।