ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ সদস্য স্ত্রীর পরকীয়ায় প্রতারিত হয়ে পটুয়াখালীতে স্বামীদের মানববন্ধন অপরাধী সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা উপড়ে ফেলতে হবে : রিজভী ভোলায় পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচির উদ্বোধন রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার শ্রীপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন আবুল মনসুর মন্ডল যৌতুক মামলায় আদালতে বাদীপক্ষের হাতে মার খেলেন আইনজীবী ও আসামি বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস, নবীপ্রেমের সুমহান বার্তায় মুখরিত জনপদ

সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ সদস্য

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশে ঢুকে কৃষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুটি শটগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যায় বিএসএফের সদস্যরা।

পরে বিজিবির কাছে জমা দেওয়া দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৯০৭-এর ২ নম্বর উপপিলারের কাছে বাংলাদেশের অংশে কয়েকজন কৃষক জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের টহল দলের তিন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কৃষকদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারধর ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাংলাদেশি কৃষকেরা বিএসএফ সদস্যদের একটি শর্টগান ধরে ফেলেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।

পরে স্থানীয়রা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেটগুলো বিজিবির বনচৌকি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামের কাছে জমা দেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম। ভারতের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী মনোজ কুমার।

বৈঠকে বিজিবি বিএসএফের কাছে দুটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি সেট হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের কৃষিকাজে হস্তক্ষেপ না করা, পুশইন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বিএসএফও সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক লিটন মিয়া (৩৫) বলেন, তার বাবা ও ভাই সীমান্তের জমিতে কাজ করছিলেন। দুপুরে তাদের খাবার দিতে তার মা সেখানে যান। পরে তিনি মাকে ডাকতে যাওয়ার সময় কয়েকজন বিএসএফ সদস্যকে বাংলাদেশের জমির ওপর দিয়ে আসতে দেখেন।

লিটনের ভাষ্য, তিনি বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় তিনি একজনের রাইফেলের মাথা ধরে ফেলেন। পরে তার বাবা ও ভাই এসে তাকে ছাড়িয়ে নেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেলে চলে যান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ সদস্য

আপডেট সময় ০২:০১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশে ঢুকে কৃষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুটি শটগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যায় বিএসএফের সদস্যরা।

পরে বিজিবির কাছে জমা দেওয়া দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৯০৭-এর ২ নম্বর উপপিলারের কাছে বাংলাদেশের অংশে কয়েকজন কৃষক জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের টহল দলের তিন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কৃষকদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারধর ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাংলাদেশি কৃষকেরা বিএসএফ সদস্যদের একটি শর্টগান ধরে ফেলেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।

পরে স্থানীয়রা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেটগুলো বিজিবির বনচৌকি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামের কাছে জমা দেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম। ভারতের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী মনোজ কুমার।

বৈঠকে বিজিবি বিএসএফের কাছে দুটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি সেট হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের কৃষিকাজে হস্তক্ষেপ না করা, পুশইন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বিএসএফও সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক লিটন মিয়া (৩৫) বলেন, তার বাবা ও ভাই সীমান্তের জমিতে কাজ করছিলেন। দুপুরে তাদের খাবার দিতে তার মা সেখানে যান। পরে তিনি মাকে ডাকতে যাওয়ার সময় কয়েকজন বিএসএফ সদস্যকে বাংলাদেশের জমির ওপর দিয়ে আসতে দেখেন।

লিটনের ভাষ্য, তিনি বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় তিনি একজনের রাইফেলের মাথা ধরে ফেলেন। পরে তার বাবা ও ভাই এসে তাকে ছাড়িয়ে নেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেলে চলে যান।