ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার শ্রীপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন আবুল মনসুর মন্ডল যৌতুক মামলায় আদালতে বাদীপক্ষের হাতে মার খেলেন আইনজীবী ও আসামি বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস, নবীপ্রেমের সুমহান বার্তায় মুখরিত জনপদ রংপুরের ঘটনায় দ্রুত সময়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকান সংগীতজগতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই রামপাল প্রেস ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন: সভাপতি শাহজালাল, সম্পাদক সাগর ও সাংগঠনিক মাসুম পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন লেগে ১৫ নবজাতকের মৃত্যু বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে প্রেমিকার কবজি কাটলেন প্রেমিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ

আমেরিকান সংগীতজগতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

dolly-parton-performs-song-taping

সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতেই নয়, চলচ্চিত্র ও সমাজসেবাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। জোলিন, আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ ও কোট অব মেনি কালার্সের মতো জনপ্রিয় গান তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে। তার লেখা আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ডলির মৃত্যুর খবর তার ভাতিজা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিয়জনদের ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

dolly-parton-img

১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১২ ভাইবোনের পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন তিনি। ১০ বছর বয়সে স্থানীয় বেতার অনুষ্ঠানে গান গাইতেন এবং ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে গান করেন।

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ন্যাশভিলে গিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন ডলি। পরে গায়ক পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তা পান। তবে নিজের একক ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। ওয়াগনারকে বিদায় জানানোর সময়ই লিখেছিলেন আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি।

country-singer-dolly-parton-poses

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সাফল্য পান। নাইন টু ফাইভ ও স্টিল ম্যাগনোলিয়াসের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন।

ডলি পার্টনের সাফল্যের গল্প শুধু গান ও অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজসেবাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ১৯৯৫ সালে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য ৩০ কোটির বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।

নিজের জন্মভূমির কাছেই তিনি ডলিউড বিনোদনকেন্দ্রও গড়ে তোলেন। এটি পরবর্তীতে ওই এলাকার অন্যতম বড় কর্মসংস্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। করোনার টিকা গবেষণাতেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেছিলেন।

country-singer-dolly-parton-performs

ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন ডলি। তার ঝলমলে পোশাক, স্বতন্ত্র সাজ, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং রসবোধের পাশাপাশি তার গান তাকে কয়েক প্রজন্মের মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ সংগীত ও শিল্পকলায় বহু সম্মাননা পেয়েছেন।

dolly

ডলির স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। মৃত্যুর আগে নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ডলির মৃত্যুতে আমেরিকান সংগীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার গান, অভিনয় ও সমাজসেবার দীর্ঘ উত্তরাধিকার তাকে শুধু দেশীয় সংগীতের শিল্পী নয়, বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য আইকনে পরিণত করেছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

আমেরিকান সংগীতজগতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

আপডেট সময় ১২:২০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

dolly-parton-performs-song-taping

সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতেই নয়, চলচ্চিত্র ও সমাজসেবাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। জোলিন, আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ ও কোট অব মেনি কালার্সের মতো জনপ্রিয় গান তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে। তার লেখা আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ডলির মৃত্যুর খবর তার ভাতিজা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিয়জনদের ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

dolly-parton-img

১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১২ ভাইবোনের পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন তিনি। ১০ বছর বয়সে স্থানীয় বেতার অনুষ্ঠানে গান গাইতেন এবং ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে গান করেন।

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ন্যাশভিলে গিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন ডলি। পরে গায়ক পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তা পান। তবে নিজের একক ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। ওয়াগনারকে বিদায় জানানোর সময়ই লিখেছিলেন আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি।

country-singer-dolly-parton-poses

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সাফল্য পান। নাইন টু ফাইভ ও স্টিল ম্যাগনোলিয়াসের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন।

ডলি পার্টনের সাফল্যের গল্প শুধু গান ও অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজসেবাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ১৯৯৫ সালে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য ৩০ কোটির বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।

নিজের জন্মভূমির কাছেই তিনি ডলিউড বিনোদনকেন্দ্রও গড়ে তোলেন। এটি পরবর্তীতে ওই এলাকার অন্যতম বড় কর্মসংস্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। করোনার টিকা গবেষণাতেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেছিলেন।

country-singer-dolly-parton-performs

ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন ডলি। তার ঝলমলে পোশাক, স্বতন্ত্র সাজ, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং রসবোধের পাশাপাশি তার গান তাকে কয়েক প্রজন্মের মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ সংগীত ও শিল্পকলায় বহু সম্মাননা পেয়েছেন।

dolly

ডলির স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। মৃত্যুর আগে নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ডলির মৃত্যুতে আমেরিকান সংগীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার গান, অভিনয় ও সমাজসেবার দীর্ঘ উত্তরাধিকার তাকে শুধু দেশীয় সংগীতের শিল্পী নয়, বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য আইকনে পরিণত করেছে।