ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ব : শিবির সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছে : হাসনাত আবদুল্লাহ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক গায়ে হলুদ শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল বরের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবিরের অনিয়ম-দূর্নীতি ৩৪০০ টাকায় বড় ভাইকে খুনের চুক্তি, ছোট ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ১০ বছর যেন ২০ বছরে পরিণত না হয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রায় ঘোষণার পরই আদালতে জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১৭ কনসালটেন্টসহ ১৩০ পদ শূন্য, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

রায় ঘোষণার পরই আদালতে জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা

মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় শুনে ইজলাস থেকে নেমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আসামি চাইলে রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। বিচারাধীন সময়ে আসামির হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ব : শিবির সভাপতি

রায় ঘোষণার পরই আদালতে জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় শুনে ইজলাস থেকে নেমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আসামি চাইলে রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। বিচারাধীন সময়ে আসামির হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।