বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে জেলা শহর থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড ও বিশ্বরোড মোড়ের টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে।
আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে গন্তব্যমুখী হাজারও মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন তারা।
সকালে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়া এনজিও কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজে রাজশাহী যাওয়া খুব প্রয়োজন ছিল। এসে দেখি সব কাউন্টার বন্ধ। সিএনজি বা অটোরিকশায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।
জেলা শহরের প্রধান স্ট্যান্ডগুলো থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাট্টা পয়েন্ট থেকে দূরপাল্লার কিছু বাস ছেড়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হরিপুর মোড়ে সড়কে দাঁড়িয়ে শ্রমিক কল্যাণের নামে সার্ভিস চার্জের রশিদ দেখিয়ে টাকা তোলা নিয়ে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের বিরোধ দীর্ঘ দিনের।
এর জের ধরে বুধবার রাতে মাইকিং করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এর আগেও এ নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান বলেন, হরিপুরে বেআইনিভাবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মটোরশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, এটি কোনো চাঁদা নয়, বরং সংগঠনের নিয়মানুযায়ী সার্ভিস চার্জ। প্রতিপক্ষের অবরোধ ও সহিংসতার আতঙ্কেই বাস মালিকরা সড়কে গাড়ি নামাচ্ছেন না।
মোঃ জাহিদ হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 





















