ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার, শপথ শুক্রবার : চিফ হুইপ পিনাকী-ইলিয়াস জামায়াতের হয়ে টাকার বিনিময়ে গুজব ছড়ান: প্রতিমন্ত্রী নুর বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের জাজিরা থানার ওসি মোঃ সালেহ আহাম্মদ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত কালুখালীতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও জেলা প্রশাসক, বরগুনা কর্তৃক সাপ্তাহিক গণশুনানি গ্রহণ অনুষ্ঠিত শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শেয়ার দখল ও হুমকির অভিযোগ

কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

ওরস শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গণনা কার্যক্রম শেষ হয়।

চারটি দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ভরে মোট ১২টি বস্তা হয়। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে নগদ অর্থ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব আলাদাভাবে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খড়মপুরের এই মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী ও ভক্ত এখানে আসেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মিন্টু খাদেম নামে পরিচিত, জানান, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২১ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৬১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা। এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো দানের পরিমাণ ১ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী

কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৬:৪৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

ওরস শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গণনা কার্যক্রম শেষ হয়।

চারটি দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ভরে মোট ১২টি বস্তা হয়। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে নগদ অর্থ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব আলাদাভাবে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খড়মপুরের এই মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী ও ভক্ত এখানে আসেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মিন্টু খাদেম নামে পরিচিত, জানান, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২১ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৬১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা। এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো দানের পরিমাণ ১ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।