ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় ৬ কেজি গাঁ’জা’সহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভোলাহাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা মুক্তা চলে গেলেন না ফেরার দেশে পীরগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার যুগল সাফল্যে বোরহানউদ্দিনে উপসচিব হলেন পীযূষ চন্দ্র দে ও শুভ্রা দাস ইনফান্তিনোর সমালোচনার জেরে চাকরি গেল ফিফার সিওওর গোপালগঞ্জে বাসে তল্লাশি, ৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার- ৪ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০ এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোরবানপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

বিআরটিসির অকেজো বাস মেরামতে ‘অলৌকিক’ ব্যয়, ৩.৮৫ লাখ থেকে বেড়ে ৩২ লাখ!

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর একটি বাসকে কেন্দ্র করে মেরামত ব্যয়, যন্ত্রাংশের হিসাব এবং ইনভেন্টরিতে বড় ধরনের অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। অকেজো ঘোষণা ও মেরামত ব্যয়ের বৈপরীত্যের সাথে সাথে ডিপো থেকে যন্ত্রাংশ খুলে ফেলার মতো গুরুতর বিষয় সামনে আসায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
একই বাস, দুই প্রাক্কলন: ব্যয়ের অস্বাভাবিক ব্যবধান
প্রাপ্ত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৪৯৯ (প্রস্তুতকাল ২০১১)। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে যন্ত্রাংশ না মেলায় বাসটিকে অকেজো ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এর মেরামত প্রাক্কলন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা:
বিবরণ তারিখ / স্মারক প্রাক্কলিত ব্যয়
প্রথম প্রাক্কলন স্মারক নং ৩১২ (১০ মার্চ ২০২৪) ৩,৮৫,৭২৫ টাকা
দ্বিতীয় প্রাক্কলন ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩২,৪৭,২০০ টাকা
ব্যয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি: প্রায় ৮.৪ গুণ ২৮,৬১,৪৭৫ টাকা
একটি অতি পুরোনো বাসের ক্ষেত্রে মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে মেরামত খরচ ২৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারিগরি ব্যাখ্যা মেলেনি।
প্রধান প্রধান অভিযোগ ও অসঙ্গতি
‘অকেজো’ ঘোষণার নথিতেই ৩২ লাখ টাকার বাজেট: মোটরযান অকেজো সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বাসটির ইঞ্জিন, এসি এবং গিয়ারবক্স সম্পূর্ণ অকেজো বলা হলেও, পরবর্তীতে সেটির বিপরীতেই ৩২.৪৭ লাখ টাকার বিশাল মেরামত প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।
যন্ত্রাংশ ‘গায়েব’ ও ভুয়া বিলের অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, ডিপোতে অবস্থানকালে বাসের পুরোনো যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্টোর রেজিস্টার বা নিলামের নথি নেই। বিপরীতে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজনের নামে অতিরিক্ত ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির সন্দেহ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক অসংগতি: বাসটির অবশিষ্ট কার্যকর আয়ুষ্কাল ও বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় এই বিপুল মেরামত ব্যয় আর্থিকভাবে কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে যেসব বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন
১. Before-After Inventory Audit: বাসটি ওয়ার্কশপে পাঠানোর আগের ইনভেন্টরি এবং ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের ইনভেন্টরি পাশাপাশি রেখে প্রতিটি যন্ত্রাংশ মিলিয়ে দেখা।
২. নথিপত্র ও ভাউচার যাচাই: যন্ত্রাংশ ক্রয়ের কার্যাদেশ, চালান, বাজারদর, সরবরাহকারী ও স্টোর রিসিভিং রিপোর্ট (SRR) ফরেনসিক অডিট করা।
৩. শ্রম ব্যয়ের সত্যতা: কতজন শ্রমিক কতদিন কাজ করেছেন—মজুরি রেজিস্টার, জব কার্ড ও পেমেন্ট ভাউচারের সাথে বাস্তব কাজের মিল দেখা।
৪. অকেজো ৩৩টি গাড়ির নথি: বিআরটিসির অকেজো ঘোষিত ৩৩টি গাড়ি বিক্রির (১৬,১১,৫০০ টাকা) প্রক্রিয়ার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা।
সরকারি অর্থ ও জনগণের সম্পদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ সম্বলিত তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে ৩.৮৫ লাখ থেকে ৩২.৪৭ লাখ টাকার এই অস্বাভাবিক যাত্রার রহস্য—এটি নিছক কারিগরি সিদ্ধান্ত, নাকি সরকারি অর্থের বড় কোনো অনিয়ম?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

বিআরটিসির অকেজো বাস মেরামতে ‘অলৌকিক’ ব্যয়, ৩.৮৫ লাখ থেকে বেড়ে ৩২ লাখ!

আপডেট সময় ০১:৫৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর একটি বাসকে কেন্দ্র করে মেরামত ব্যয়, যন্ত্রাংশের হিসাব এবং ইনভেন্টরিতে বড় ধরনের অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। অকেজো ঘোষণা ও মেরামত ব্যয়ের বৈপরীত্যের সাথে সাথে ডিপো থেকে যন্ত্রাংশ খুলে ফেলার মতো গুরুতর বিষয় সামনে আসায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
একই বাস, দুই প্রাক্কলন: ব্যয়ের অস্বাভাবিক ব্যবধান
প্রাপ্ত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৪৯৯ (প্রস্তুতকাল ২০১১)। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে যন্ত্রাংশ না মেলায় বাসটিকে অকেজো ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এর মেরামত প্রাক্কলন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা:
বিবরণ তারিখ / স্মারক প্রাক্কলিত ব্যয়
প্রথম প্রাক্কলন স্মারক নং ৩১২ (১০ মার্চ ২০২৪) ৩,৮৫,৭২৫ টাকা
দ্বিতীয় প্রাক্কলন ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩২,৪৭,২০০ টাকা
ব্যয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি: প্রায় ৮.৪ গুণ ২৮,৬১,৪৭৫ টাকা
একটি অতি পুরোনো বাসের ক্ষেত্রে মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে মেরামত খরচ ২৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারিগরি ব্যাখ্যা মেলেনি।
প্রধান প্রধান অভিযোগ ও অসঙ্গতি
‘অকেজো’ ঘোষণার নথিতেই ৩২ লাখ টাকার বাজেট: মোটরযান অকেজো সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বাসটির ইঞ্জিন, এসি এবং গিয়ারবক্স সম্পূর্ণ অকেজো বলা হলেও, পরবর্তীতে সেটির বিপরীতেই ৩২.৪৭ লাখ টাকার বিশাল মেরামত প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।
যন্ত্রাংশ ‘গায়েব’ ও ভুয়া বিলের অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, ডিপোতে অবস্থানকালে বাসের পুরোনো যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্টোর রেজিস্টার বা নিলামের নথি নেই। বিপরীতে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজনের নামে অতিরিক্ত ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির সন্দেহ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক অসংগতি: বাসটির অবশিষ্ট কার্যকর আয়ুষ্কাল ও বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় এই বিপুল মেরামত ব্যয় আর্থিকভাবে কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে যেসব বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন
১. Before-After Inventory Audit: বাসটি ওয়ার্কশপে পাঠানোর আগের ইনভেন্টরি এবং ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের ইনভেন্টরি পাশাপাশি রেখে প্রতিটি যন্ত্রাংশ মিলিয়ে দেখা।
২. নথিপত্র ও ভাউচার যাচাই: যন্ত্রাংশ ক্রয়ের কার্যাদেশ, চালান, বাজারদর, সরবরাহকারী ও স্টোর রিসিভিং রিপোর্ট (SRR) ফরেনসিক অডিট করা।
৩. শ্রম ব্যয়ের সত্যতা: কতজন শ্রমিক কতদিন কাজ করেছেন—মজুরি রেজিস্টার, জব কার্ড ও পেমেন্ট ভাউচারের সাথে বাস্তব কাজের মিল দেখা।
৪. অকেজো ৩৩টি গাড়ির নথি: বিআরটিসির অকেজো ঘোষিত ৩৩টি গাড়ি বিক্রির (১৬,১১,৫০০ টাকা) প্রক্রিয়ার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা।
সরকারি অর্থ ও জনগণের সম্পদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ সম্বলিত তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে ৩.৮৫ লাখ থেকে ৩২.৪৭ লাখ টাকার এই অস্বাভাবিক যাত্রার রহস্য—এটি নিছক কারিগরি সিদ্ধান্ত, নাকি সরকারি অর্থের বড় কোনো অনিয়ম?