ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি, ফরিদপুরে শিকলবন্দি নিলয় উদ্ধার; গ্রেফতার- ৩

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ

শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা কোনো স্তরের শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এবং টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে দর্শক সারির প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শক সারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী থানার ওসি মোঃ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি, কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ড. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমীর আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি তারেক আহমেদ, সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি, শিক্ষক নেতা একেএম আব্দুল আউয়ালের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া যথার্থ ছিলো। এ বিষয়ে কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে নেওয়া হয়নি। অথচ অনেক অযাচিত লোকদের মঞ্চে দেখা গেছে।”
বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:৩১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা কোনো স্তরের শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এবং টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে দর্শক সারির প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শক সারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী থানার ওসি মোঃ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি, কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ড. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমীর আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি তারেক আহমেদ, সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি, শিক্ষক নেতা একেএম আব্দুল আউয়ালের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া যথার্থ ছিলো। এ বিষয়ে কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে নেওয়া হয়নি। অথচ অনেক অযাচিত লোকদের মঞ্চে দেখা গেছে।”
বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে।