ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি 

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদরসহ জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও শহর এলাকায় ছেঁড়া-ফাটা, জোড়াতালি দেওয়া ও অতি পুরাতন কাগজের নোট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে পর্যাপ্ত নতুন নোট না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গণপরিবহন, হাটবাজার, দোকানপাট থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এই ধরনের জরাজীর্ণ টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ফরিদপুর সদর ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ছেঁড়া-ফাটা টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা ঘটছে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। একজন ক্ষুব্ধ ক্রেতা জানান, “ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে অনেক সময় মলিন টাকা বের হয়। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে বাজারে গেলে কোনো দোকানদার নিতে চায় না। এমনকি বাসে উঠলে কন্ডাক্টরও এই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট ‘ক্লিন নোট পলিসি’ (Clean Note Policy) অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় বাধ্যতামূলকভাবে জনসাধারণের কাছ থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি মলিন নোট গ্রহণ এবং তা বদল করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে ব্যাংক গ্রাহককে তাৎক্ষণিক সমপরিমাণ নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট দিতে বাধ্য। এছাড়া ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এ সংক্রান্ত দৃশ্যমান বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে রাখারও নির্দেশনা রয়েছে।
তবে ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যাংক শাখাগুলো এই নির্দেশনা মানছে না। ছেঁড়া বা পুরাতন টাকা নিয়ে ব্যাংকে গেলে কাউন্টার থেকে নানা অজুহাতে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, বাজারে ছোট নোটের সরবরাহ বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার করা না হলে এই জনভোগান্তি আরও প্রকট হবে। কোনো ব্যাংক বা ব্যবসায়ী যদি আইনসম্মত এই নোটগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভুক্তভোগীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন নম্বর ১৬২৩৬-এ অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি 

আপডেট সময় ০৮:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদরসহ জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও শহর এলাকায় ছেঁড়া-ফাটা, জোড়াতালি দেওয়া ও অতি পুরাতন কাগজের নোট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে পর্যাপ্ত নতুন নোট না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গণপরিবহন, হাটবাজার, দোকানপাট থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এই ধরনের জরাজীর্ণ টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ফরিদপুর সদর ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ছেঁড়া-ফাটা টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা ঘটছে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। একজন ক্ষুব্ধ ক্রেতা জানান, “ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে অনেক সময় মলিন টাকা বের হয়। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে বাজারে গেলে কোনো দোকানদার নিতে চায় না। এমনকি বাসে উঠলে কন্ডাক্টরও এই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট ‘ক্লিন নোট পলিসি’ (Clean Note Policy) অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় বাধ্যতামূলকভাবে জনসাধারণের কাছ থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি মলিন নোট গ্রহণ এবং তা বদল করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে ব্যাংক গ্রাহককে তাৎক্ষণিক সমপরিমাণ নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট দিতে বাধ্য। এছাড়া ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এ সংক্রান্ত দৃশ্যমান বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে রাখারও নির্দেশনা রয়েছে।
তবে ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যাংক শাখাগুলো এই নির্দেশনা মানছে না। ছেঁড়া বা পুরাতন টাকা নিয়ে ব্যাংকে গেলে কাউন্টার থেকে নানা অজুহাতে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, বাজারে ছোট নোটের সরবরাহ বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার করা না হলে এই জনভোগান্তি আরও প্রকট হবে। কোনো ব্যাংক বা ব্যবসায়ী যদি আইনসম্মত এই নোটগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভুক্তভোগীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন নম্বর ১৬২৩৬-এ অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।