ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল চট্টগ্রামের ডিসি পদ পেতে উপসচিব সালাহউদ্দিনের ৭০ কোটি টাকার চুক্তি! ঝালকাঠিতে ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের অভিযান, ৩৭০ বাংলাদেশি আটক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ সিদ্ধান্তের ফুলঝুরি সভায়, বাস্তবায়ন শূন্য-বোরহানউদ্দিনে চুরি-জুয়া নিয়ে উদ্বেগ ভারতের উত্তরপ্রদেশে লিটারপ্রতি নগদে কেনা হচ্ছে গোমূত্র

ভারতের উত্তরপ্রদেশে লিটারপ্রতি নগদে কেনা হচ্ছে গোমূত্র

ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের আর্থিক সংকট নিরসন এবং দুগ্ধদানে অক্ষম গবাদিপশুর সুরক্ষায় এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের বাড়তি উপার্জনের পথ তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদানের বিকল্প হিসেবে কৃষিকাজে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে; বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) একে আপাদমস্তক একটি ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের তহবিল জোগাড় করতেই বিজেপি সরকার এমন প্রকল্প সাজিয়েছে।

বুলন্দশহর জেলার সিয়ানা তহসিলের অধীনে অবস্থিত নারসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বে একটি ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের (এফপিও) মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই পুরো প্রকল্পটি। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১৫টি গ্রাম এই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে, যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং পরিবারের আয় বাড়াতে এই উদ্যোগে তাদের বড় ভূমিকায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০০ জন নারীর সমন্বয়ে ও তাদের অংশীদার বানিয়ে শুরু হওয়া এই সিস্টেমে গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীদের লিটারপ্রতি ২ রুপি করে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এই প্রকল্প সফল হলে রাজ্যজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি করে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো উত্তরপ্রদেশে বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে একে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি বলে দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনে দলীয় তহবিল সংগ্রহ করার লক্ষ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এমন কেলেঙ্কারির ছক কষেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের গোশালা কিংবা সেখানে থাকা গবাদিপশু—কোনোটিই নিরাপদ নয় এবং এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত কোনো উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বিরোধী দলের তীব্র আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে রাজ্য বিজেপিও। বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে মন্তব্য করেন, সরকারের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যেই ত্রুটি খোঁজা সমাজবাদী পার্টির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমাজবাদী পার্টি যে জনগোষ্ঠীর (যাদব সম্প্রদায়) নাম ভাঙিয়ে নিজস্ব রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছে, সেই নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ যখন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন, তখন বিরোধীরা কোনোভাবেই তা মেনে নিতে পারছেন না।

সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা

ভারতের উত্তরপ্রদেশে লিটারপ্রতি নগদে কেনা হচ্ছে গোমূত্র

আপডেট সময় ০৫:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের আর্থিক সংকট নিরসন এবং দুগ্ধদানে অক্ষম গবাদিপশুর সুরক্ষায় এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের বাড়তি উপার্জনের পথ তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদানের বিকল্প হিসেবে কৃষিকাজে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে; বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) একে আপাদমস্তক একটি ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের তহবিল জোগাড় করতেই বিজেপি সরকার এমন প্রকল্প সাজিয়েছে।

বুলন্দশহর জেলার সিয়ানা তহসিলের অধীনে অবস্থিত নারসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বে একটি ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের (এফপিও) মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই পুরো প্রকল্পটি। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১৫টি গ্রাম এই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে, যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং পরিবারের আয় বাড়াতে এই উদ্যোগে তাদের বড় ভূমিকায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০০ জন নারীর সমন্বয়ে ও তাদের অংশীদার বানিয়ে শুরু হওয়া এই সিস্টেমে গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীদের লিটারপ্রতি ২ রুপি করে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এই প্রকল্প সফল হলে রাজ্যজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি করে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো উত্তরপ্রদেশে বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে একে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি বলে দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনে দলীয় তহবিল সংগ্রহ করার লক্ষ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এমন কেলেঙ্কারির ছক কষেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের গোশালা কিংবা সেখানে থাকা গবাদিপশু—কোনোটিই নিরাপদ নয় এবং এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত কোনো উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বিরোধী দলের তীব্র আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে রাজ্য বিজেপিও। বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে মন্তব্য করেন, সরকারের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যেই ত্রুটি খোঁজা সমাজবাদী পার্টির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমাজবাদী পার্টি যে জনগোষ্ঠীর (যাদব সম্প্রদায়) নাম ভাঙিয়ে নিজস্ব রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছে, সেই নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ যখন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন, তখন বিরোধীরা কোনোভাবেই তা মেনে নিতে পারছেন না।

সূত্র: এনডিটিভি