ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুষ্টিয়ার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আগুন হোসেনপুরে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মিনহাজ চৌধুরীর কব্জায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম! অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের রিপ্লাই দেন না প্রীতি জিনতা লুট করে দেশের অর্থনীতি শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে হাসিনা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মহাদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ২ ম্যাচ স্থগিত বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ

বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণমূলক বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এখানে কে কার সঙ্গে পরিচিত, এই সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। সে যে পদেরই মন্ত্রী হোক বা যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন, কোনো পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি নিরাপদ ও সুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য অর্থাৎ ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে বিগত দিনে যেসব সমস্যা ও নানা ধরনের রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধা তৈরি করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাজেটেই ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগের একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের আজকের এই যৌথ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের সভায় আমরা মূলত এনবিআর ও পোর্টের যৌথ উদ্যোগে কাস্টমস ও পোর্টের কার্যক্রম যেন গভীর ও ঝামেলাহীনভাবে চলতে পারে, সে বিষয় নিয়ে বসেছি। কাস্টমসের রেগুলেশন জটিলতা এবং বন্দরে অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ মানুষকে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে পড়তে হয়। এতে ব্যবসায়ীদেরও পরিচালন খরচ বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘আজকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পোর্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসেছি। প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, পোর্ট ও কাস্টমস যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে কাজ করার এই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সাহসের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।

কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ পণ্য খালাসের জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, কাস্টমসে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ ও আটকে থাকা পণ্য জমে চত্বর তৈরি হয়েছে। বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক কনটেইনার আটকে থাকার সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। কাস্টমস চত্বরকে এসব জট থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খালাস বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। এতে কারও জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার বা পৃষ্ঠপোষণমূলক ব্যবস্থার স্থান থাকবে না।

চট্টগ্রাম ঘিরে এডিবির বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

তিনি আরও বলেন, বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস হাব গড়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্যেই এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় অংশীজনদের কথা শুনে তাদের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। চট্টগ্রামের আগামী দিনের উন্নয়নের জন্য এটি এক বিশাল সুখবর বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আগুন

বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণমূলক বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এখানে কে কার সঙ্গে পরিচিত, এই সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। সে যে পদেরই মন্ত্রী হোক বা যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন, কোনো পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি নিরাপদ ও সুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য অর্থাৎ ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে বিগত দিনে যেসব সমস্যা ও নানা ধরনের রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধা তৈরি করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাজেটেই ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগের একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের আজকের এই যৌথ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের সভায় আমরা মূলত এনবিআর ও পোর্টের যৌথ উদ্যোগে কাস্টমস ও পোর্টের কার্যক্রম যেন গভীর ও ঝামেলাহীনভাবে চলতে পারে, সে বিষয় নিয়ে বসেছি। কাস্টমসের রেগুলেশন জটিলতা এবং বন্দরে অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ মানুষকে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে পড়তে হয়। এতে ব্যবসায়ীদেরও পরিচালন খরচ বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘আজকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পোর্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসেছি। প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, পোর্ট ও কাস্টমস যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে কাজ করার এই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সাহসের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।

কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ পণ্য খালাসের জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, কাস্টমসে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ ও আটকে থাকা পণ্য জমে চত্বর তৈরি হয়েছে। বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক কনটেইনার আটকে থাকার সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। কাস্টমস চত্বরকে এসব জট থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খালাস বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। এতে কারও জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার বা পৃষ্ঠপোষণমূলক ব্যবস্থার স্থান থাকবে না।

চট্টগ্রাম ঘিরে এডিবির বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

তিনি আরও বলেন, বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস হাব গড়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্যেই এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় অংশীজনদের কথা শুনে তাদের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। চট্টগ্রামের আগামী দিনের উন্নয়নের জন্য এটি এক বিশাল সুখবর বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।