ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি মেট্রোরেলের টেন্ডারে ই-জিপি নেই, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, এগিয়ে মেয়েরা বিআরটিসির জোয়ার সাহারা ডিপোর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ‘কর্তনের’ অভিযোগ এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পিআইও এনামুল হকের দীর্ঘ ‘রাজত্ব’

দুদকের জালে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদার

ঢাকা সিটির জনবহুল এলাকা কোনাপাড়ার দরবার শরীফ রোডে ছয় কাঠা জমির উপর তিন তলা একটি ভবনের মালিক জুয়েল শিকদার । সম্প্রতি এই ভবনটি তিনি রেডিমেড ক্রয় করেন। এছাড়া ডেমরা এলাকায় কিনেছে একাধিক ফ্লাট ও প্লট। মুন্সিগঞ্জ শহরে রয়েছে একটি ফ্লাট। গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় নামে বেনামে কিনেছে অগাধ সম্পত্তি। স্ত্রী সন্তানের নামে একাধিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ( এফডিআর) করে রেখেছে কোটি কোটি টাকা । দৃশ্যমান এই সম্পত্তির আড়ালেও রয়েছে নামে বেনামে আরও অগাধ সম্পত্তি।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ এমনকি দুদকও অবগত । তার এই অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে কখনেই তদন্তে নামেনি জেলা প্রশাসন । তবে এবার তার সম্পদের খোজ খবর নিতে দুূদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে৷ এদিকে জেলা প্রশাসন বরাবরই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে ।

এদিকে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের । তবে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে তিনি সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অবৈধ ভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ।

জানা গেছে জুয়েল শিকদার ২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ( সিএস বা কনফিডেন্সিয়াল শাখা) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। টানা এখানে চাকরী করেন প্রায় চৌদ্দ বছর। মুলত দীর্ঘ এই সময়টাই চলে তার অবৈধ পথে টাকা কামানের ধান্দা। জেলা প্রশাসন অফিস আগেই জানতে পারে জেলার কোন উপজেলার কোন মৌজাতে জমি অধিগ্রহণ গ্রহণ করবে, আর সেই মৌজায় জমি অধিগ্রহণের আগেই জুয়েল শিকদার সিন্ডিকেট নামে বেনামে কম দামে জমি কিনে রাখে। তাছাড়া গ্রাহকদের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে এই জুয়েল শিকদার । ডিসির সিএস ছিল তাই এলএ শাখাও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে গজারিয়ার বালুয়াকান্দিতে ফায়ার সার্ভিসের নামে শতশত বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার । সে সময় গ্রাহকদের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের নেতৃত্বে ছিল এই জুয়েল শিকদার সিন্ডিকেট । জমি মালিকদের কাছ থেকে ৫℅ থেকে শুরু করে ৭℅ পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট । বালুয়াকান্দির মতো গজারিয়ার আরও অনেক মৌজায় জমি অধিগ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে, সব জায়গাতেই একই ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয় এই জুয়েল শিকদার । এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনকে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তার নিজ গ্রাম গজারিয়ার হোগলাকান্দি গ্রামের স্থানীয়দের অনেকে জানান, নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। এদিকে এলাকাবাসীর অনেকের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী মুন্সিগন্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শ্রীনগর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে। এখানে এসেও থেমে নেই তার অনিয়ম ও দুর্নীতি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জুয়েল শিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি একেক সময় একেক কথা বলেন। প্রথমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তিনি বলেন অফিস কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে । এটা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ

দুদকের জালে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদার

আপডেট সময় ০১:২২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা সিটির জনবহুল এলাকা কোনাপাড়ার দরবার শরীফ রোডে ছয় কাঠা জমির উপর তিন তলা একটি ভবনের মালিক জুয়েল শিকদার । সম্প্রতি এই ভবনটি তিনি রেডিমেড ক্রয় করেন। এছাড়া ডেমরা এলাকায় কিনেছে একাধিক ফ্লাট ও প্লট। মুন্সিগঞ্জ শহরে রয়েছে একটি ফ্লাট। গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় নামে বেনামে কিনেছে অগাধ সম্পত্তি। স্ত্রী সন্তানের নামে একাধিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ( এফডিআর) করে রেখেছে কোটি কোটি টাকা । দৃশ্যমান এই সম্পত্তির আড়ালেও রয়েছে নামে বেনামে আরও অগাধ সম্পত্তি।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ এমনকি দুদকও অবগত । তার এই অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে কখনেই তদন্তে নামেনি জেলা প্রশাসন । তবে এবার তার সম্পদের খোজ খবর নিতে দুূদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে৷ এদিকে জেলা প্রশাসন বরাবরই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে ।

এদিকে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের । তবে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে তিনি সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অবৈধ ভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ।

জানা গেছে জুয়েল শিকদার ২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ( সিএস বা কনফিডেন্সিয়াল শাখা) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। টানা এখানে চাকরী করেন প্রায় চৌদ্দ বছর। মুলত দীর্ঘ এই সময়টাই চলে তার অবৈধ পথে টাকা কামানের ধান্দা। জেলা প্রশাসন অফিস আগেই জানতে পারে জেলার কোন উপজেলার কোন মৌজাতে জমি অধিগ্রহণ গ্রহণ করবে, আর সেই মৌজায় জমি অধিগ্রহণের আগেই জুয়েল শিকদার সিন্ডিকেট নামে বেনামে কম দামে জমি কিনে রাখে। তাছাড়া গ্রাহকদের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে এই জুয়েল শিকদার । ডিসির সিএস ছিল তাই এলএ শাখাও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে গজারিয়ার বালুয়াকান্দিতে ফায়ার সার্ভিসের নামে শতশত বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার । সে সময় গ্রাহকদের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের নেতৃত্বে ছিল এই জুয়েল শিকদার সিন্ডিকেট । জমি মালিকদের কাছ থেকে ৫℅ থেকে শুরু করে ৭℅ পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট । বালুয়াকান্দির মতো গজারিয়ার আরও অনেক মৌজায় জমি অধিগ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে, সব জায়গাতেই একই ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয় এই জুয়েল শিকদার । এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনকে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তার নিজ গ্রাম গজারিয়ার হোগলাকান্দি গ্রামের স্থানীয়দের অনেকে জানান, নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। এদিকে এলাকাবাসীর অনেকের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী মুন্সিগন্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শ্রীনগর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে। এখানে এসেও থেমে নেই তার অনিয়ম ও দুর্নীতি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জুয়েল শিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি একেক সময় একেক কথা বলেন। প্রথমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তিনি বলেন অফিস কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে । এটা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।