ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ মনোহরগঞ্জের আ’লীগ নেতা ফিরোজের বিরুদ্ধে অবৈধ মার্কেট ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি আসছে কাল, কেন্দ্রে পৌঁছাবে শনিবার ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চন্দ্রগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার ফুটপাত দখল করলেই মামলা, হকারদের কড়া বার্তা দিল ডিএসসিসি সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনায় মব সৃষ্টি করে হেনস্তার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট!

‎জনগণের ট্যাক্সের টাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবার দ্বিগুণ করা হয়েছে, আর এই বিপুল অর্থ ছাড় হতেই সেখানে ভর করেছে এক পুরোনো অভিশাপ। সরকার যখন স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ঠিক তখনই মন্ত্রণালয়ের আড়ালে শুরু হয়েছে শত শত কোটি টাকার লুটেরাদের নতুন চক্রান্ত। রোগ প্রতিরোধ বা মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াৎ হোসেন বকুলের নজর এখন শুধু নতুন ভবন নির্মাণ আর ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটার দিকে। কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে কমিশন বাণিজ্য আর হাজার কোটি টাকা লোপাটের সুযোগ!

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত দুর্নীতিবাজ মিঠু জামিনে জেল থেকে বের হয়েই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি হাত মিলিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল! জাতীয় কিডনী হাসপাতালের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার জন্য নির্দিষ্ট একটি বিতর্কিত কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পরিচালক ডা. রাশেদ আনোয়ারের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রচণ্ড চাপ। সৎ ও নীতিবান এই পরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে তিনি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হবেন না। কিন্তু থেমে নেই অপরাধীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইডিসিএলের এমডি আশরাফুজ্জামানকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যান মন্ত্রী বকুল, সেখানে তাকে মিঠুচক্রের হাতে ক্ষমতা সঁপে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জিম্মি হয়ে পড়া সেই কর্মকর্তা ভয়ে আজ কথা বলতেও আতঙ্কবোধ করছেন।
‎
‎এই নির্লজ্জ দুর্নীতির পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জুনের মধ্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো পাত্তা নেই। নতুন হাসপাতাল আর আইসিইউ-এর চমকপ্রদ নাম দিয়ে কেনা হচ্ছে নিকৃষ্টমানের সব চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা কিছুদিন পরেই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে ধুলোবালিতে। হাসপাতালে গিয়ে গরিব রোগীরা পায় না ওষুধ, পায় না সেবা, কিন্তু সিন্ডিকেটের পকেটে ঠিকই চলে যায় দেশের সাধারণ মানুষের হাড়ভাঙা উপার্জনের হাজার হাজার কোটি টাকা। একের পর এক দুর্নীতি করে স্বাস্থ্য খাতকে এভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
‎
‎ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই বেপরোয়া সিন্ডিকেট আর রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা বকুল-মিঠু গংদের বিরুদ্ধে এখন চারদিকে ফুসে উঠছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম ঘৃণা। ‎সাধারণ মানুষ জানতে চায়, স্বাস্থ্য খাতের এই রাঘববোয়ালদের বিচার কবে হবে? জনগণের পকেটের টাকা মেরে এই চোরের দল আর কতদিন পার পাবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় ০৯:৫৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

‎জনগণের ট্যাক্সের টাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবার দ্বিগুণ করা হয়েছে, আর এই বিপুল অর্থ ছাড় হতেই সেখানে ভর করেছে এক পুরোনো অভিশাপ। সরকার যখন স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ঠিক তখনই মন্ত্রণালয়ের আড়ালে শুরু হয়েছে শত শত কোটি টাকার লুটেরাদের নতুন চক্রান্ত। রোগ প্রতিরোধ বা মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াৎ হোসেন বকুলের নজর এখন শুধু নতুন ভবন নির্মাণ আর ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটার দিকে। কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে কমিশন বাণিজ্য আর হাজার কোটি টাকা লোপাটের সুযোগ!

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত দুর্নীতিবাজ মিঠু জামিনে জেল থেকে বের হয়েই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি হাত মিলিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল! জাতীয় কিডনী হাসপাতালের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার জন্য নির্দিষ্ট একটি বিতর্কিত কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পরিচালক ডা. রাশেদ আনোয়ারের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রচণ্ড চাপ। সৎ ও নীতিবান এই পরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে তিনি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হবেন না। কিন্তু থেমে নেই অপরাধীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইডিসিএলের এমডি আশরাফুজ্জামানকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যান মন্ত্রী বকুল, সেখানে তাকে মিঠুচক্রের হাতে ক্ষমতা সঁপে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জিম্মি হয়ে পড়া সেই কর্মকর্তা ভয়ে আজ কথা বলতেও আতঙ্কবোধ করছেন।
‎
‎এই নির্লজ্জ দুর্নীতির পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জুনের মধ্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো পাত্তা নেই। নতুন হাসপাতাল আর আইসিইউ-এর চমকপ্রদ নাম দিয়ে কেনা হচ্ছে নিকৃষ্টমানের সব চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা কিছুদিন পরেই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে ধুলোবালিতে। হাসপাতালে গিয়ে গরিব রোগীরা পায় না ওষুধ, পায় না সেবা, কিন্তু সিন্ডিকেটের পকেটে ঠিকই চলে যায় দেশের সাধারণ মানুষের হাড়ভাঙা উপার্জনের হাজার হাজার কোটি টাকা। একের পর এক দুর্নীতি করে স্বাস্থ্য খাতকে এভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
‎
‎ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই বেপরোয়া সিন্ডিকেট আর রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা বকুল-মিঠু গংদের বিরুদ্ধে এখন চারদিকে ফুসে উঠছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম ঘৃণা। ‎সাধারণ মানুষ জানতে চায়, স্বাস্থ্য খাতের এই রাঘববোয়ালদের বিচার কবে হবে? জনগণের পকেটের টাকা মেরে এই চোরের দল আর কতদিন পার পাবে?