ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন
সঞ্জিত মালাকার থেকে আবদুর রহমান

সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা

ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে, স্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া, সেই অর্থে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং কয়েক বছর পর কথিত দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সঞ্জিত মালাকার ওরফে সঞ্জিত কুমার সরকার ওরফে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—তার কথিত প্রথম সংসারের সন্তান সৃষ্টি এখন পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে জন্মনিবন্ধন করাতে পারছে না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সঞ্জিত মালাকার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার নাগমু গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মনিন্দ্র মালাকার। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর হাই সাহেবের মোড় এলাকার মিনার সাহেবের বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথির দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি সঞ্জিত মালাকার হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই দিনে তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামের রাজধানী বেগমকে বিয়ে করেন। এ বিয়েকে ঘিরে সাটুরিয়ায় নোটারিয়াল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি নম্বর ১৪০, তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১০-এ বিবাহের ঘোষণাপত্র এবং রেজিস্ট্রি নম্বর ১৩৫, একই তারিখে আরেকটি নোটারিয়াল দলিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পরই শুরু হয় অর্থের লেনদেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানী বেগম তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া ২০ লাখ টাকা স্বামী সঞ্জিত মালাকারকে দেন। ওই টাকা দিয়ে সঞ্জিত ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে গার্মেন্টস ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হন বলে দাবি করেছেন রাজধানী বেগমের পক্ষ।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্বামীর ব্যবসা দাঁড় করাতে রাজধানী বেগমের দেওয়া ওই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
ঘটনার মোড় ঘোরে ২০১৮ সালে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সঞ্জিত মালাকার তার পূর্বের ধর্মের কনক রায়কে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রথম স্ত্রী রাজধানী বেগম জানতে পারলে তিনি স্বামীর কাছে বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু সঞ্জিত বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানী বেগমের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী বেগম ও সঞ্জিত মালাকারের একটি মেয়ে রয়েছে—নাম সৃষ্টি। মায়ের দাবি, সঞ্জিতই তার বাবা। কিন্তু সঞ্জিতের সরকারি পরিচয়পত্র ও নামসংক্রান্ত তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে এখন মেয়েটির পিতৃপরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ধর্মান্তরের সময় সঞ্জিত এফিডেভিটের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করলেও নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) সেই পরিবর্তন করেননি। ফলে একদিকে এফিডেভিটে এক নাম, অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে অন্য নাম থাকায় সন্তানের কাগজপত্র তৈরির সময় পরিচয়গত অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।
এই জটিলতার সরাসরি ভুক্তভোগী এখন সৃষ্টি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি তৈরির প্রয়োজন হলেও পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। একটি শিশুর জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক অধিকার যদি শুধু পিতার পরিচয় অস্বীকার বা নথিগত অসামঞ্জস্যের কারণে আটকে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়—এটি প্রশাসনিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, যে ব্যক্তির সঙ্গে রাজধানী বেগমের বিয়ের নোটারিয়াল কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং যার সঙ্গে সৃষ্টির জন্মসূত্রের দাবি করা হচ্ছে—সেই সঞ্জিত এখন সৃষ্টির পিতৃপরিচয়ই অস্বীকার করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সঞ্জিত মালাকার ওরফে সঞ্জিত কুমার সরকার ওরফে আবদুর রহমানের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, রাজধানী বেগম তার বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করতেন। সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটি কার—তা তিনি জানেন না।
সঞ্জিতের এই বক্তব্যের সঙ্গে রাজধানী বেগমের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বিয়ের নথি, অর্থ লেনদেনের দাবি এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট নোটারিয়াল নথি, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিয়ের ঘোষণাপত্র এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
একজন নারীর দাবি—বিয়ের পর স্বামীকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন, সেই অর্থে স্বামী ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন; পরে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে তাকে ও সন্তানকে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে স্বামী সেই সম্পর্ক ও সন্তান—দুটিরই পরিচয় অস্বীকার করছেন। মাঝখানে পড়ে নিজের জন্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আটকে আছে সৃষ্টি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সৃষ্টির জন্মনিবন্ধনে তার প্রকৃত পিতৃপরিচয় কীভাবে নিশ্চিত হবে? ২০১০ সালের কথিত বিয়ের নথি, ধর্মান্তরের কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য কেন তৈরি হলো? রাজধানী বেগমের দেওয়া ২০ লাখ টাকার কোনো প্রামাণ্য হিসাব রয়েছে কি না? আর ২০১৮ সালের কথিত দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?
এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ যাচাইয়ের ওপর। তবে অভিযোগ সত্য হলে, একজন নারীকে স্বামী-সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তার সন্তানের মৌলিক পরিচয় ও নাগরিক নথিপত্রও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুতর মানবিক ও প্রশাসনিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর!

সঞ্জিত মালাকার থেকে আবদুর রহমান

সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা

আপডেট সময় ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে, স্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া, সেই অর্থে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং কয়েক বছর পর কথিত দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সঞ্জিত মালাকার ওরফে সঞ্জিত কুমার সরকার ওরফে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—তার কথিত প্রথম সংসারের সন্তান সৃষ্টি এখন পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে জন্মনিবন্ধন করাতে পারছে না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সঞ্জিত মালাকার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার নাগমু গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মনিন্দ্র মালাকার। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর হাই সাহেবের মোড় এলাকার মিনার সাহেবের বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথির দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি সঞ্জিত মালাকার হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই দিনে তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামের রাজধানী বেগমকে বিয়ে করেন। এ বিয়েকে ঘিরে সাটুরিয়ায় নোটারিয়াল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি নম্বর ১৪০, তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১০-এ বিবাহের ঘোষণাপত্র এবং রেজিস্ট্রি নম্বর ১৩৫, একই তারিখে আরেকটি নোটারিয়াল দলিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পরই শুরু হয় অর্থের লেনদেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানী বেগম তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া ২০ লাখ টাকা স্বামী সঞ্জিত মালাকারকে দেন। ওই টাকা দিয়ে সঞ্জিত ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে গার্মেন্টস ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হন বলে দাবি করেছেন রাজধানী বেগমের পক্ষ।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্বামীর ব্যবসা দাঁড় করাতে রাজধানী বেগমের দেওয়া ওই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
ঘটনার মোড় ঘোরে ২০১৮ সালে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সঞ্জিত মালাকার তার পূর্বের ধর্মের কনক রায়কে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রথম স্ত্রী রাজধানী বেগম জানতে পারলে তিনি স্বামীর কাছে বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু সঞ্জিত বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানী বেগমের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী বেগম ও সঞ্জিত মালাকারের একটি মেয়ে রয়েছে—নাম সৃষ্টি। মায়ের দাবি, সঞ্জিতই তার বাবা। কিন্তু সঞ্জিতের সরকারি পরিচয়পত্র ও নামসংক্রান্ত তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে এখন মেয়েটির পিতৃপরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ধর্মান্তরের সময় সঞ্জিত এফিডেভিটের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করলেও নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) সেই পরিবর্তন করেননি। ফলে একদিকে এফিডেভিটে এক নাম, অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে অন্য নাম থাকায় সন্তানের কাগজপত্র তৈরির সময় পরিচয়গত অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।
এই জটিলতার সরাসরি ভুক্তভোগী এখন সৃষ্টি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি তৈরির প্রয়োজন হলেও পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। একটি শিশুর জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক অধিকার যদি শুধু পিতার পরিচয় অস্বীকার বা নথিগত অসামঞ্জস্যের কারণে আটকে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়—এটি প্রশাসনিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, যে ব্যক্তির সঙ্গে রাজধানী বেগমের বিয়ের নোটারিয়াল কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং যার সঙ্গে সৃষ্টির জন্মসূত্রের দাবি করা হচ্ছে—সেই সঞ্জিত এখন সৃষ্টির পিতৃপরিচয়ই অস্বীকার করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সঞ্জিত মালাকার ওরফে সঞ্জিত কুমার সরকার ওরফে আবদুর রহমানের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, রাজধানী বেগম তার বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করতেন। সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটি কার—তা তিনি জানেন না।
সঞ্জিতের এই বক্তব্যের সঙ্গে রাজধানী বেগমের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বিয়ের নথি, অর্থ লেনদেনের দাবি এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট নোটারিয়াল নথি, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিয়ের ঘোষণাপত্র এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
একজন নারীর দাবি—বিয়ের পর স্বামীকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন, সেই অর্থে স্বামী ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন; পরে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে তাকে ও সন্তানকে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে স্বামী সেই সম্পর্ক ও সন্তান—দুটিরই পরিচয় অস্বীকার করছেন। মাঝখানে পড়ে নিজের জন্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আটকে আছে সৃষ্টি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সৃষ্টির জন্মনিবন্ধনে তার প্রকৃত পিতৃপরিচয় কীভাবে নিশ্চিত হবে? ২০১০ সালের কথিত বিয়ের নথি, ধর্মান্তরের কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য কেন তৈরি হলো? রাজধানী বেগমের দেওয়া ২০ লাখ টাকার কোনো প্রামাণ্য হিসাব রয়েছে কি না? আর ২০১৮ সালের কথিত দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?
এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ যাচাইয়ের ওপর। তবে অভিযোগ সত্য হলে, একজন নারীকে স্বামী-সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তার সন্তানের মৌলিক পরিচয় ও নাগরিক নথিপত্রও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুতর মানবিক ও প্রশাসনিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।