ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে নিয়াজুর-সুবর্ণা দম্পতিকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ডিজিটাল নম্বর প্লেটের নামে ১৫০০ কোটি টাকা আদায়, ৫৪ লাখ গ্রাহক বিপাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে যুগ্ম সচিব মোর্শেদা ফেরদৌসকে ঘিরে নানা অভিযোগ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট!

আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে, উঠছে নানা প্রশ্ন

দুর্ভাগ্য এ জাতির। কথায় কথায় যে কর্মকর্তা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে গালি দিতেন, সেই মহারাজ এখন তারেক রহমানের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে। সেই সৌভাগ্যবান মহারাজ হলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হাসান (৬৩৩০)। বিসিএস ১৫ ব্যাচের এ কর্মকর্তা বেগম খালেদা জিয়াকে অশিক্ষিত, মুর্খ, এইট-পাশ বলে গালি দিতেন, আর তারেক রহমানকে বলতেন জিয়াউর রহমানের কুলাঙ্গার সন্তান।
হাজারো শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, কিশোর, সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ লাশ করেছে ২৪শের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আবু সাইদ, মুগ্ধের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, অথচ মাহমুদুল হাসানরা হাসিনার সাথে সুর মিলিয়ে বলেছেন, “এই যে কুলাঙ্গার তারেক রহমান আসছে- ডিসেম্বরের পরে ধ্বসে পড়বে’।
মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী নূরুন আখতার (৬৫৩৮) বিসিএস ১৮ ব্যাচের এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তা, যিনি ৩য় বিভাগে ডিগ্রি পাশ। এই রেজাল্ট নিয়েও আওয়ামী আমলে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী ও মাহমুদুল হাসানের আপনার বড় ভাই ছাত্রলীগের কেন্ত্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নূরুন নাহার তৃতীয় শ্রেনীতে ডিগ্রি পাশ হয়েও এডমিন ক্যাডারে স্থান করে নেন।
এই নুরুন আখতারও খালেদা জিয়াকে “এইট পাশ, জাতির কলঙ্ক প্রধানমন্ত্রী” বলতেন। সেও বর্তমানে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। অথচ তাদের চেয়ে কম অপরাধী অনেক কর্মকর্তাকে আওয়ামী দোসর হিসেবে হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে।
আওয়ামী দুঃশাসন কালে সচিবালয়ে আওয়ামীত্রাসের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মাহমুদুল দম্পতি তাদের বাসায় নিয়মিত আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করতেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হতো তার ব্যাচসহ কাছাকাছি ব্যাচের কারা পদোন্নতি পাবে, আর কারা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত হবে, আর কাদের কপাল পুড়বে। এজন্য ব্যাচমেটরা মাহমুদুলকে যমের মতো ভয় পেতো।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মাহমুদুল হাসান ও নুরুন আখতার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার আপন ছোট বোন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নাসরিন সুলতানা (২০৫৬৭), যিনি বিসিএস ২৫ ব্যাচের উপসচিব, বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। সেও বড় ভাই ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া স্বপনের কল্যানে এডমিন ক্যাডারে চাকুরী পান।
মাহমুদুল হাসান ২০০৯ থেকে টানা ২০১৩ পর্যন্ত অর্থ বিভাগের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন। তার ঢাকা জেলার ডিসি হবার কথা ছিল, কিন্তু কোনো একটা রাজনৈতিক কৌশলে সে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং সেখান থেকেও কোটি কোটি টাকা আয় করেন। এরপর তিনি পোস্টিং নেন ইউনিসেফের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, পরিচালক রাজউক, যুগ্ম-সচিব ক্যাবিনেট ডিভিশন, মহাপরিচালক ওয়ারপো, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, এমডি ডেসকো, জাতিসংঘে স্থায়ী কমিশনে ইকোনমিক মিনিস্টার ৪ বছর, স্বামী স্ত্রী উভয়েই সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন। সে যখন যেখানে যেভাবে চেয়েছে, সেভাবেই পদ বাগিয়ে নিয়েছে।
উল্লেখ্য ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং মাহমুদুল হাসান মোহনগঞ্জ শহরে পাশাপাশি বাড়ি। দুই পরিবারই আওয়ামী লীগের সূতিকাগার। সাজ্জাদুল হাসান যখন প্রধানমন্ত্রীর সচিব তখন মাহমুদুল হাসান প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার বাসায় বসে ২০১৮ সালের রাতের ভোট নিয়ে কাজ করতেন। মাহমুদুল হাসান প্রতিদিন সকল ডিসি-এসপিদের সাথে কথা বলতেন। ডিসি এসপিদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতেন। সেখানে পুলিশের প্রলয় জোয়ার্দার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, এডমিনের ওয়াহিদা আক্তার, হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, শেখ আখতার, হোসেন সাবিরুল ইসলাম প্রমুখ থাকতেন। সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বেই তার বাসায় মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
২০১৮ সালের রাতের ভোটের পর মাহমুদুল হাসান ও সাজ্জাদুল হাসান শেখ হাসিনার নামে তাদের নিজ জেলা নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাসের পরিহাস হলো, জুলাই বিপ্লব হলো, ক্ষমতাও বদালালো, কিন্তু সেই মাহমুদুল হাসান ও নুরুন আখতার সবকিছুর ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেল।
প্রফেসর ইউনুসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে মাহমুদুল হাসান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়াকে বিপুল অংকের (৩০ কোটি টাকার) ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও পরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের পদ বাগিয়ে নেন । মাহমুদুল হাসানের সুবিধাভোগী ঠিকাদারগন এই টাকা উপদেষ্টা আসিফের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল।
এই হলো জুলাই বিপ্লবের নির্মম ইতিহাস। যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার কলিজার ভিতরে থেকে দেশের প্রশাসন চালিয়েছিল, ভোট ডাকাতি করেছিল, তারা এখনও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে আছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সচিব (যিনি পরে ২০২৪ সালের খয়রাতি এমপি) সাজ্জাদুল হাসান জুলাই বিপ্লবের পর দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকলেও এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তাকে বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্যদের মিলনমেলায় প্রকাশ্যে দেখা গেছে। মাহমুদুল হাসান ও সাজ্জাদুল হাসান ঢাকায় প্রায়ই দেখা করেন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার বিষয়ে বৈঠক করেন।
এই মাহমুদুল হাসান দম্পতিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বাধ্যতামূলক অবসর সহ তার দুর্নীতির তদন্ত করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে, উঠছে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় ০২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দুর্ভাগ্য এ জাতির। কথায় কথায় যে কর্মকর্তা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে গালি দিতেন, সেই মহারাজ এখন তারেক রহমানের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে। সেই সৌভাগ্যবান মহারাজ হলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হাসান (৬৩৩০)। বিসিএস ১৫ ব্যাচের এ কর্মকর্তা বেগম খালেদা জিয়াকে অশিক্ষিত, মুর্খ, এইট-পাশ বলে গালি দিতেন, আর তারেক রহমানকে বলতেন জিয়াউর রহমানের কুলাঙ্গার সন্তান।
হাজারো শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, কিশোর, সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ লাশ করেছে ২৪শের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আবু সাইদ, মুগ্ধের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, অথচ মাহমুদুল হাসানরা হাসিনার সাথে সুর মিলিয়ে বলেছেন, “এই যে কুলাঙ্গার তারেক রহমান আসছে- ডিসেম্বরের পরে ধ্বসে পড়বে’।
মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী নূরুন আখতার (৬৫৩৮) বিসিএস ১৮ ব্যাচের এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তা, যিনি ৩য় বিভাগে ডিগ্রি পাশ। এই রেজাল্ট নিয়েও আওয়ামী আমলে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী ও মাহমুদুল হাসানের আপনার বড় ভাই ছাত্রলীগের কেন্ত্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নূরুন নাহার তৃতীয় শ্রেনীতে ডিগ্রি পাশ হয়েও এডমিন ক্যাডারে স্থান করে নেন।
এই নুরুন আখতারও খালেদা জিয়াকে “এইট পাশ, জাতির কলঙ্ক প্রধানমন্ত্রী” বলতেন। সেও বর্তমানে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। অথচ তাদের চেয়ে কম অপরাধী অনেক কর্মকর্তাকে আওয়ামী দোসর হিসেবে হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে।
আওয়ামী দুঃশাসন কালে সচিবালয়ে আওয়ামীত্রাসের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মাহমুদুল দম্পতি তাদের বাসায় নিয়মিত আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করতেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হতো তার ব্যাচসহ কাছাকাছি ব্যাচের কারা পদোন্নতি পাবে, আর কারা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত হবে, আর কাদের কপাল পুড়বে। এজন্য ব্যাচমেটরা মাহমুদুলকে যমের মতো ভয় পেতো।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মাহমুদুল হাসান ও নুরুন আখতার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার আপন ছোট বোন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নাসরিন সুলতানা (২০৫৬৭), যিনি বিসিএস ২৫ ব্যাচের উপসচিব, বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। সেও বড় ভাই ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া স্বপনের কল্যানে এডমিন ক্যাডারে চাকুরী পান।
মাহমুদুল হাসান ২০০৯ থেকে টানা ২০১৩ পর্যন্ত অর্থ বিভাগের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন। তার ঢাকা জেলার ডিসি হবার কথা ছিল, কিন্তু কোনো একটা রাজনৈতিক কৌশলে সে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং সেখান থেকেও কোটি কোটি টাকা আয় করেন। এরপর তিনি পোস্টিং নেন ইউনিসেফের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, পরিচালক রাজউক, যুগ্ম-সচিব ক্যাবিনেট ডিভিশন, মহাপরিচালক ওয়ারপো, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, এমডি ডেসকো, জাতিসংঘে স্থায়ী কমিশনে ইকোনমিক মিনিস্টার ৪ বছর, স্বামী স্ত্রী উভয়েই সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন। সে যখন যেখানে যেভাবে চেয়েছে, সেভাবেই পদ বাগিয়ে নিয়েছে।
উল্লেখ্য ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং মাহমুদুল হাসান মোহনগঞ্জ শহরে পাশাপাশি বাড়ি। দুই পরিবারই আওয়ামী লীগের সূতিকাগার। সাজ্জাদুল হাসান যখন প্রধানমন্ত্রীর সচিব তখন মাহমুদুল হাসান প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার বাসায় বসে ২০১৮ সালের রাতের ভোট নিয়ে কাজ করতেন। মাহমুদুল হাসান প্রতিদিন সকল ডিসি-এসপিদের সাথে কথা বলতেন। ডিসি এসপিদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতেন। সেখানে পুলিশের প্রলয় জোয়ার্দার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, এডমিনের ওয়াহিদা আক্তার, হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, শেখ আখতার, হোসেন সাবিরুল ইসলাম প্রমুখ থাকতেন। সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বেই তার বাসায় মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
২০১৮ সালের রাতের ভোটের পর মাহমুদুল হাসান ও সাজ্জাদুল হাসান শেখ হাসিনার নামে তাদের নিজ জেলা নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাসের পরিহাস হলো, জুলাই বিপ্লব হলো, ক্ষমতাও বদালালো, কিন্তু সেই মাহমুদুল হাসান ও নুরুন আখতার সবকিছুর ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেল।
প্রফেসর ইউনুসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে মাহমুদুল হাসান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়াকে বিপুল অংকের (৩০ কোটি টাকার) ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও পরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের পদ বাগিয়ে নেন । মাহমুদুল হাসানের সুবিধাভোগী ঠিকাদারগন এই টাকা উপদেষ্টা আসিফের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল।
এই হলো জুলাই বিপ্লবের নির্মম ইতিহাস। যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার কলিজার ভিতরে থেকে দেশের প্রশাসন চালিয়েছিল, ভোট ডাকাতি করেছিল, তারা এখনও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে আছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সচিব (যিনি পরে ২০২৪ সালের খয়রাতি এমপি) সাজ্জাদুল হাসান জুলাই বিপ্লবের পর দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকলেও এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তাকে বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্যদের মিলনমেলায় প্রকাশ্যে দেখা গেছে। মাহমুদুল হাসান ও সাজ্জাদুল হাসান ঢাকায় প্রায়ই দেখা করেন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার বিষয়ে বৈঠক করেন।
এই মাহমুদুল হাসান দম্পতিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বাধ্যতামূলক অবসর সহ তার দুর্নীতির তদন্ত করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।