ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

মিঠাপুকুরে নোংরা চত্বর থেকে রাজস্বের হাট: উন্নয়ন, নাকি বিতর্ক?

  • শহীদুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ০৭:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি অংশ, যা একসময় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল, বর্তমানে ছোট ছোট দোকান স্থাপনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে। এ উদ্যোগকে ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানটি আগে আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিব্রতকর ছিল। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কয়েকটি ছোট দোকান নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন ও অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে এসব দোকান থেকে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হচ্ছে বলেও জানা যায়।
তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম ও অবৈধতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
যদি প্রকল্পটি প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে এটি একদিকে পরিবেশ উন্নয়ন, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সভার কার্যবিবরণী (রেজুলেশন), ইজারা সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমার প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্ন ও সংশয় অনেকাংশেই দূর হতে পারে।
উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তথ্যের উন্মুক্ততাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে একদিকে যেমন জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কেও সবার কাছে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

মিঠাপুকুরে নোংরা চত্বর থেকে রাজস্বের হাট: উন্নয়ন, নাকি বিতর্ক?

আপডেট সময় ০৭:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি অংশ, যা একসময় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল, বর্তমানে ছোট ছোট দোকান স্থাপনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে। এ উদ্যোগকে ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানটি আগে আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিব্রতকর ছিল। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে কয়েকটি ছোট দোকান নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন ও অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে এসব দোকান থেকে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হচ্ছে বলেও জানা যায়।
তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম ও অবৈধতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
যদি প্রকল্পটি প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে এটি একদিকে পরিবেশ উন্নয়ন, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সভার কার্যবিবরণী (রেজুলেশন), ইজারা সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমার প্রমাণ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্ন ও সংশয় অনেকাংশেই দূর হতে পারে।
উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তথ্যের উন্মুক্ততাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এতে একদিকে যেমন জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কেও সবার কাছে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।