ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর সই-সিল জাল করে তদবির বাণিজ্য, চক্রের মূলহোতা আটক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক

ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্যাসের মূল্য পরিশোধে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) রেটের সুবিধা নিয়ে বছরের পর বছর গ্যাস বিল কম পরিশোধ করেছে। সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা দুদকের অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, এই অনিয়ম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত অনিয়ম-এই চারটি অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের স্বার্থে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দুদক প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের কাছে ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাসের কাছে ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।

দুদকের ভাষ্য, ক্যাপাসিটি রেটের আওতায় গ্যাস বিল পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণ করে কম বিল পরিশোধ করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এখন অনুসন্ধানের বাকি কার্যক্রম শেষ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একই অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালত ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন।

পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত দুদককে অনুসন্ধানের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দুদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুসন্ধানের পরিধি এখনও শেষ হয়নি। অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে অনিয়মের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর সই-সিল জাল করে তদবির বাণিজ্য, চক্রের মূলহোতা আটক

ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক

আপডেট সময় ১২:৪১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্যাসের মূল্য পরিশোধে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) রেটের সুবিধা নিয়ে বছরের পর বছর গ্যাস বিল কম পরিশোধ করেছে। সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা দুদকের অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, এই অনিয়ম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত অনিয়ম-এই চারটি অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের স্বার্থে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দুদক প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের কাছে ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাসের কাছে ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।

দুদকের ভাষ্য, ক্যাপাসিটি রেটের আওতায় গ্যাস বিল পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণ করে কম বিল পরিশোধ করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এখন অনুসন্ধানের বাকি কার্যক্রম শেষ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একই অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালত ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন।

পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত দুদককে অনুসন্ধানের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দুদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুসন্ধানের পরিধি এখনও শেষ হয়নি। অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে অনিয়মের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।