ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক!

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে তিনি টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, টেন্ডার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিধি মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। রিটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাউবোর মহাপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাজ না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাঁশবারিয়া (সীতাকুণ্ড) ফেরিঘাট ও সংযুক্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়ম হয়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বৈষম্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কিছু প্রকল্পে কাজ পেতে কমিশন দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে টেন্ডারে অংশ নিয়েও কার্যাদেশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

বড় প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাউবোর অধীনে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত কিছু বাঁধ ও নদী-সংরক্ষণ প্রকল্প নিয়েও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অতীতের অভিযোগও আলোচনায়
পাউবোর বিভিন্ন দায়িত্বে থাকার সময় তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বেশিরভাগই এখনো তদন্ত বা বিচারিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

সুশাসন ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ প্রদান এবং বাস্তবায়ন নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ কোন মন্তব্য করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন 

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে তিনি টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, টেন্ডার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিধি মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। রিটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাউবোর মহাপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাজ না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাঁশবারিয়া (সীতাকুণ্ড) ফেরিঘাট ও সংযুক্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়ম হয়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বৈষম্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কিছু প্রকল্পে কাজ পেতে কমিশন দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে টেন্ডারে অংশ নিয়েও কার্যাদেশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

বড় প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাউবোর অধীনে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত কিছু বাঁধ ও নদী-সংরক্ষণ প্রকল্প নিয়েও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অতীতের অভিযোগও আলোচনায়
পাউবোর বিভিন্ন দায়িত্বে থাকার সময় তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বেশিরভাগই এখনো তদন্ত বা বিচারিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

সুশাসন ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ প্রদান এবং বাস্তবায়ন নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ কোন মন্তব্য করেননি।