ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু’ শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে নার্সিং ইন্সষ্টিটিউটে খাদ্য মেলা অনুষ্ঠিত

বাসচালকের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি রুপি ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৮ কোটি রুপি নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মিনার মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মিনার মন্ডল আগে বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয়। টুলু মন্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে মিনার মন্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রথমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি রুপি উদ্ধার হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ কোটি রুপির বেশি। এত বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে গিয়ে ব্যবহৃত পাঁচটি টাকা গণনার যন্ত্র বিকল হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৫ কেজি সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি রুপি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনার মন্ডল দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনা টুলু মন্ডল এবং তাঁর কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিনার মন্ডলের সঙ্গে টুলু মন্ডলের মালিকানাধীন পাথরের খনি ও ক্রাশিং ইউনিটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কীভাবে তাঁর কাছে এত বিপুল অর্থ ও সম্পদ এল এবং এর উৎস কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে অভিযানটি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

বাসচালকের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি রুপি ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার

আপডেট সময় ০৪:১৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৮ কোটি রুপি নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মিনার মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মিনার মন্ডল আগে বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয়। টুলু মন্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে মিনার মন্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রথমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি রুপি উদ্ধার হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ কোটি রুপির বেশি। এত বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে গিয়ে ব্যবহৃত পাঁচটি টাকা গণনার যন্ত্র বিকল হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৫ কেজি সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি রুপি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনার মন্ডল দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনা টুলু মন্ডল এবং তাঁর কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিনার মন্ডলের সঙ্গে টুলু মন্ডলের মালিকানাধীন পাথরের খনি ও ক্রাশিং ইউনিটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কীভাবে তাঁর কাছে এত বিপুল অর্থ ও সম্পদ এল এবং এর উৎস কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে অভিযানটি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।