ভোলার চরফ্যাশনে চাঁদাবাজি, বসতঘরে তালা লাগানো ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ভোলা জেলা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী মো. ছালাম বাদী হয়ে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে। এছাড়া তার দুই ছেলে মো. আরাফাত হোসেন মালতিয়া ও ফাহাদ হোসেন মালতিয়াকেও আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ভিটায় বসবাস করে থাই গ্লাসের ব্যবসা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তার বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন এবং তাকে মারধর করেন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার আসামিরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী মো. ছালাম দাবি করেন, আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তার বসতঘরে তালা লাগিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এমনকি চিকিৎসা গ্রহণ ও থানায় অভিযোগ দিতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বড় ছেলে ফাহাদ হোসেন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিগুলো তাদের দাদা ওহেদ আলী মালতিয়ার মালিকানাধীন। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাদীপক্ষ জমি দখলে নেয় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যুবলীগের এক কর্মীকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
রিয়াজ ফরাজী 






















