ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার দ্বিতীয় বিয়ের তিন মাসের মাথায় ভাঙনের মুখে বাদশার সংসার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১ ট্রাইব্যুনালে ফেরদৌস-শাওন-সোমা ও আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আ. লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মধ্যে তফাৎ আছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী পরীক্ষা সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিলেন নরেন্দ্র মোদি মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নিয়ম ভেঙে ১০৮ কোটি টাকার দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ ভিসির বিরুদ্ধে বড়লেখায় সিএনজি-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে রপ্তানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল। তবে বছর শেষে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে আগামী অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দুটি যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার গত বাজেটে রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার সুফল বিদেশি ক্রেতারাও দ্রুত দেখতে পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তা সব মিলিয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো প্রভাব পড়বে না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় ১০:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে রপ্তানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল। তবে বছর শেষে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে আগামী অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দুটি যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকলেও সরকার গত বাজেটে রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার সুফল বিদেশি ক্রেতারাও দ্রুত দেখতে পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তা সব মিলিয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো প্রভাব পড়বে না।