ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনায় ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে ৭০০ মানুষের চিকিৎসা, ২০০ গবাদি পশুর সেবা কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তবু বহাল সিডিএর প্রকৌশলীরা বাজারদর যাচাই ছাড়াই ৬ হাজার কোটির গ্রিড প্রকল্পে ২,২১৫ কোটির চুক্তি মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি হারের পরেও বীরের সম্মান, আর্জেন্টিনাকে বরণে সমর্থকের ঢল এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডের জরুরি বার্তা এবার সেই ভাইরাল রুনাকে গ্রেপ্তার করল ডিবি

বরগুনায় ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ প্রধান প্রকৌশলীর

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দোসর আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মো. মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের।

জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। আগামী ১৪ মে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানান এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম। তিনি তদন্ত করতে নোটিশ করেছেন। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত করবেন তিনি।

এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।

তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহের দুর্নীতির চিত্র। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, ‘ঢালাই দেওয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ ওঠে গেছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ দোসরদের দিয়েছেন।’

এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে । তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন।’ বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম করিনি।’ এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, ‘তদন্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনায় ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা

বরগুনায় ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ প্রধান প্রকৌশলীর

আপডেট সময় ০১:৫০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দোসর আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মো. মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের।

জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। আগামী ১৪ মে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানান এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম। তিনি তদন্ত করতে নোটিশ করেছেন। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত করবেন তিনি।

এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।

তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহের দুর্নীতির চিত্র। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, ‘ঢালাই দেওয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ ওঠে গেছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ দোসরদের দিয়েছেন।’

এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে । তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন।’ বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম করিনি।’ এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, ‘তদন্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে।’