ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দুই বিভাগীয় প্রধানকে নিয়ে বিতর্ক!

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউ ও অঙ্কোলজি বিভাগের দুই বিভাগীয় প্রধানকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হাসপাতালের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব অভিযোগ সামনে এলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মাহাদী হাসান প্রকাশ রাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, পদের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হাসপাতালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সম্পদ, আবাসস্থল, ফ্ল্যাট বুকিং, গাড়ি এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস বা বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি।
একই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. মাহাদী হাসান ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর একটি যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা, অভিযোগের সত্যতা বা পরবর্তী আইনি অগ্রগতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপরদিকে হাসপাতালের অঙ্কোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সিফাতুজ্জাহানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সেবা খাত থেকে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, বহির্বিভাগ (ওপিডি), সিটি সিমুলেটর ও রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি সেবার বিভিন্ন পর্যায় থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হতো। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই দুই বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে হাসপাতালের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সহযোগিতায় এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা তদন্তের আওতায় আসেনি। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত বা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যেহেতু অভিযোগগুলো হাসপাতালের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত, তাই বিষয়গুলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বিভাগীয় প্রধানকে নিয়ে বিতর্ক!

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউ ও অঙ্কোলজি বিভাগের দুই বিভাগীয় প্রধানকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হাসপাতালের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব অভিযোগ সামনে এলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মাহাদী হাসান প্রকাশ রাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, পদের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হাসপাতালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সম্পদ, আবাসস্থল, ফ্ল্যাট বুকিং, গাড়ি এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস বা বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি।
একই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. মাহাদী হাসান ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর একটি যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা, অভিযোগের সত্যতা বা পরবর্তী আইনি অগ্রগতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপরদিকে হাসপাতালের অঙ্কোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সিফাতুজ্জাহানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সেবা খাত থেকে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, বহির্বিভাগ (ওপিডি), সিটি সিমুলেটর ও রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি সেবার বিভিন্ন পর্যায় থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হতো। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই দুই বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে হাসপাতালের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সহযোগিতায় এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা তদন্তের আওতায় আসেনি। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত বা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যেহেতু অভিযোগগুলো হাসপাতালের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত, তাই বিষয়গুলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।