ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম তৃতীয় বিয়ে নিয়ে ‘মহাবিপদে’ আমির খান! খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল মারামারি, আটক ৩ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ইয়াবার ডিলার শা আপেল কে নিয়ে নানান বিতর্কের গুণজন যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করল চীন বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী “পীরগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ: কলেজ-মসজিদের রাস্তা বন্ধ, এলাকায় উত্তেজনা”

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে শিরীন সুলতানা বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। আবার অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারায় এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং সময়ে সময়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে দেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়েও আইন রয়েছে। বিষয়টি চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে শিরীন সুলতানা বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। আবার অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারায় এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং সময়ে সময়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে দেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়েও আইন রয়েছে। বিষয়টি চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।