ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর বরটিয়ায় হাড়িয়া কামারপাড়া যাওয়ার রাস্তা বেহাল, দুর্ভোগে জনসাধারণ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আল-হিকমা রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি মহারণের আগে স্পেনের ফাঁদে পড়তে চায় না ফ্রান্স মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী বরখাস্ত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সমবায় কর্মকর্তা আফজালের অনিয়ম-দুর্নীতি দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হওয়া লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনীতে। বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বহু ক্ষেত্রে সেই অর্থ কাগজে-কলমে খরচ দেখানো হয়েছে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র কেনার খাতে। কোথাও আবার পুরোনো আসবাব নতুন বলে দেখিয়ে বিল পাস করানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, গাংনী উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছিল ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংস্কার করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়েই সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়া দেড় লাখ টাকার বিল অনুমোদনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় বিল অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গাংনীর সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল থাকার পরও ওয়ালের ওপর এক ফুট করে ওয়াল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রয় দেখানো হয়েছে, যা নীতিমালার বহির্ভূত। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশক্রমে কাজ হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুর রশিদ। তাঁর দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাতেই ব্যয় করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় না হলে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কারণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ উন্নত করা এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী কেন্দ্র নিশ্চিত করতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সেই অর্থ যদি অন্য খাতে ব্যয় করা হয় বা কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়, তবে তা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি জনআস্থার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাংনীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের বিষয়টি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও তাঁকে এ বিষয়ে অবহিতই করা হয়নি। তিনি বলেন, বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির কোনো উত্তর মেলেনি।

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হওয়া লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনীতে। বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বহু ক্ষেত্রে সেই অর্থ কাগজে-কলমে খরচ দেখানো হয়েছে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র কেনার খাতে। কোথাও আবার পুরোনো আসবাব নতুন বলে দেখিয়ে বিল পাস করানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, গাংনী উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছিল ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংস্কার করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়েই সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়া দেড় লাখ টাকার বিল অনুমোদনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় বিল অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গাংনীর সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল থাকার পরও ওয়ালের ওপর এক ফুট করে ওয়াল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রয় দেখানো হয়েছে, যা নীতিমালার বহির্ভূত। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশক্রমে কাজ হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুর রশিদ। তাঁর দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাতেই ব্যয় করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় না হলে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কারণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ উন্নত করা এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী কেন্দ্র নিশ্চিত করতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সেই অর্থ যদি অন্য খাতে ব্যয় করা হয় বা কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়, তবে তা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি জনআস্থার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাংনীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের বিষয়টি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও তাঁকে এ বিষয়ে অবহিতই করা হয়নি। তিনি বলেন, বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির কোনো উত্তর মেলেনি।