ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা? তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা সংকট, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৪৫০ কোটির ‘কিং’ নিয়ে আসছেন বাবা-মেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বন্যায় প্রাণহানি : রিজভী যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন বুশরা খান নিদ্রা প্রতারণা মামলায় বিএসবি গ্লোবালের খায়রুল বাশারের আরও ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা

আর্জেন্টিনার নাম আসলেই যাদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় লিওনেল মেসির প্রশংসা, তাদের একজন জো কোল। একসময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পাশ কাটিয়ে মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড় বলেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই মিডফিল্ডার। তার মতে, মেসিই এমন একজন ফুটবলার, যিনি ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব সাফল্য অর্জন করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন।

তবে সেমিফাইনালের আগে সেই কোলই এবার ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। মেসির প্রতি শ্রদ্ধা অটুট থাকলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমরা জানি ওদের শক্তি কোথায়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমরাই তাদের হারাব। ভেতর থেকে আমি সেটাই অনুভব করছি।’

জো কোলের পর আলোচনায় যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মেসি নন, বরং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

নেভিলের ভাষায়, এই জুটি যেন একই সঙ্গে বিশ্বের ‘সেরা’ এবং ‘সবচেয়ে বাজে’ সেন্টার-ব্যাক জুটি, ‘এক মুহূর্তে ওরা এমন কিছু করবে, যা দেখে মনে হবে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার। আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করবে, যা বিশ্বাস করা কঠিন।’

তবে সমালোচনার মাঝেও ছিল প্রশংসার সুর। নেভিলের মতে, রোমেরো ও মার্তিনেজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের লড়াকু মানসিকতা, ‘আপনার মনে হবে, ওরা বুঝি প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দেবে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন, ওরাই হেডে বল ক্লিয়ার করছে, গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করছে কিংবা গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই ওদের মধ্যে অন্যরকম কিছু কাজ করে।’

নেভিলের মন্তব্যে যেমন সংশয় আছে, তেমনি আছে মুগ্ধতাও। আর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এই বৈপরীত্যই হয়তো রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটির সবচেয়ে বড় পরিচয়। ঝুঁকি নেওয়ার সাহস, আগ্রাসী মানসিকতা এবং যেকোনো মূল্যে দলকে রক্ষা করার সংকল্প, এই বৈশিষ্ট্যই তাদের আলাদা করে তোলে।

সেমিফাইনালের আগে তাই মাঠের বাইরের লড়াইটাও কম জমজমাট নয়। একদিকে জো কোলের দৃঢ় বিশ্বাস, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারাবে। অন্যদিকে গ্যারি নেভিলের বিশ্লেষণ, যেখানে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একই সঙ্গে প্রশংসা ও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা?

যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনার নাম আসলেই যাদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় লিওনেল মেসির প্রশংসা, তাদের একজন জো কোল। একসময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পাশ কাটিয়ে মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড় বলেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই মিডফিল্ডার। তার মতে, মেসিই এমন একজন ফুটবলার, যিনি ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব সাফল্য অর্জন করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন।

তবে সেমিফাইনালের আগে সেই কোলই এবার ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। মেসির প্রতি শ্রদ্ধা অটুট থাকলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমরা জানি ওদের শক্তি কোথায়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমরাই তাদের হারাব। ভেতর থেকে আমি সেটাই অনুভব করছি।’

জো কোলের পর আলোচনায় যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মেসি নন, বরং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

নেভিলের ভাষায়, এই জুটি যেন একই সঙ্গে বিশ্বের ‘সেরা’ এবং ‘সবচেয়ে বাজে’ সেন্টার-ব্যাক জুটি, ‘এক মুহূর্তে ওরা এমন কিছু করবে, যা দেখে মনে হবে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার। আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করবে, যা বিশ্বাস করা কঠিন।’

তবে সমালোচনার মাঝেও ছিল প্রশংসার সুর। নেভিলের মতে, রোমেরো ও মার্তিনেজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের লড়াকু মানসিকতা, ‘আপনার মনে হবে, ওরা বুঝি প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দেবে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন, ওরাই হেডে বল ক্লিয়ার করছে, গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করছে কিংবা গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই ওদের মধ্যে অন্যরকম কিছু কাজ করে।’

নেভিলের মন্তব্যে যেমন সংশয় আছে, তেমনি আছে মুগ্ধতাও। আর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এই বৈপরীত্যই হয়তো রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটির সবচেয়ে বড় পরিচয়। ঝুঁকি নেওয়ার সাহস, আগ্রাসী মানসিকতা এবং যেকোনো মূল্যে দলকে রক্ষা করার সংকল্প, এই বৈশিষ্ট্যই তাদের আলাদা করে তোলে।

সেমিফাইনালের আগে তাই মাঠের বাইরের লড়াইটাও কম জমজমাট নয়। একদিকে জো কোলের দৃঢ় বিশ্বাস, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারাবে। অন্যদিকে গ্যারি নেভিলের বিশ্লেষণ, যেখানে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একই সঙ্গে প্রশংসা ও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে।