রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বৈধ মালিকানাধীন জমির বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জোরপূর্বক জমির অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির এক কর্মকর্তা।
আবেদনকারী মো. রতন আলী, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির গালিমপুর উপশাখার সাব-ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালে তিনি বাড্ডা মৌজায় তার নামে রেকর্ডভুক্ত একটি জমি ক্রয় করেন। জমিটির খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০৮০০ এবং দাগ নম্বর ৪৬৩৯। ক্রয়ের পর থেকে তিনি জমিটির বৈধ দখলে ছিলেন এবং চারপাশে ইটের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি কর্মস্থলে থাকাকালে পাশের বাড়ির মালিক সোহেলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি জমির পূর্ব পাশের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জোরপূর্বক জমির একটি অংশ দখল করেন। অভিযোগে সোহেল, সামছুল হুদা, নাজু, নুরু, কবির, বাচ্চু ও ইসরাফিলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রতন আলীর দাবি, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ঘটনার তিন দিন পর, ২৬ মে ২০২৬, বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তার দাবি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের ভাষ্য, সম্প্রতি বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং দখলের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
পরে প্রতিকার না পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে আবেদন করেন রতন আলী। আবেদনে তিনি জবরদখলকৃত জমি উদ্ধার, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বৈধ মালিকানার কাগজপত্র, দখলের ইতিহাস, ভূমি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাড্ডা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 




















