সংবাদ শিরোনাম ::
দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি শহীদ সন্তানের মায়ের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণে অশ্রুসিক্ত চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি শনিবারকে ছুটির দিন ভেবে পরীক্ষা মিস শাহনাজের, পরে গিয়েও মিলল না প্রবেশের অনুমতি দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার কৃমি নির্মূল করে যে পাতার রস শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২ মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক তার জায়গা সমাজে হবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কেন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেন না শাকিব খান? ১৭ বছরে অনেক নির্যাতনেও মাথা নত করিনি : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের গৌরবময় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান।

ঠিক তেমনি আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদানই প্রমাণ করে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর।’
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

USA

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সকল মানুষ সমান’।
আজ ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক ক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এক অবিস্মরণীয় অবদান। আজকের এই সঙ্গীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দেবে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এই গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রমাণ। আগামীতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।

জমকালো এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদীয় ককাসের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার

আপডেট সময় ০৯:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের গৌরবময় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান।

ঠিক তেমনি আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদানই প্রমাণ করে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর।’
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

USA

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সকল মানুষ সমান’।
আজ ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক ক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এক অবিস্মরণীয় অবদান। আজকের এই সঙ্গীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দেবে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এই গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রমাণ। আগামীতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।

জমকালো এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদীয় ককাসের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।