বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের তোফাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন।

কর্মসূচির আওতায় উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের মধ্যে মোট ২ হাজার ৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির ১৩ ধরনের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮০টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০টি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ১০০টি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ২৫টি এবং কৃষক পর্যায়ে ২ হাজার ৯৫টি চারা বিতরণ করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাইমুর রহমান, তোফাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিৎ কুমার ভদ্রসহ সহকারী শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করা এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের মধ্যে ১৩ প্রজাতির মোট ২ হাজার ৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সবুজায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
আনোয়ারুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার 



















