পীরগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধনাঢ্য পোদ্দার বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ২৫ জুন দুপুরে খাবারে চেতনানাশক এবং বাড়ীতে পাউডার ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন পরিবারের লোকজনসহ স্থানীওরা। প্রকাশ থাকে যে বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন বাড়িতে দুটি কুকুরের সংশ্লিষ্টতায় বাড়ির লোকজনের সহযোগিতা ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না অপরিচিতরা। সর্বসময় তারা দাপুটে ভাবে চলাফেরা করে আর সেই কুকুর দুটো সহ পরিবারের ৭ জন লোক রাতে গভীর ঘুমে নেতিয়ে পড়ে। ওই সুযোগে জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ডাকাতদল নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার একবারপুরে ওই বাড়ীতে শত শত নারী-পুরুষ লুটপাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাপড়-চোপড় আসবাবপত্র দেখে বিস্মিত হন।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বাড়ির সবাই একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির সদস্যরা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। এরপর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তারা জ্ঞান ফিরলে ডাকাতির বিষয়টি টের পান। ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতিকারীরা খাবারের সাথে শক্তিশালী কোনো চেতনানাশক পাউডার মিশিয়েছিল। এমনকি বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষায় থাকা কুকুর দুটিকেও একই কৌশলে অচেতন করা হয়েছে, যার ফলে রাতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করা অপরাধীদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
ডাকাতির শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, অপরাধীরা বাড়িতে ঢুকে একটি দক্ষিণ দুয়ারী ঘরের জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। তবে খোয়া যাওয়া সম্পদের সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
অসুস্থ সদস্যরা হলেন, বাড়ীর বয়োজ্যেষ্ঠ মাখন পোদ্দার (৭০) ও রীতা রানী (৬৫), রতন পোদ্দার (৩৩) ও তার স্ত্রী বৃষ্টি রানী, কনক পোদ্দার (৩০), বনিতা রানী (৪০) এবং বাধন পোদ্দার (২০)
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি এই বাড়িতে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এই বাড়িতে মোট ৭ বার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে কোটি টাকারও বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের পর ২০২৬ সালে এসে আবারও তারা এমন ভয়ংকর ডাকাতির শিকার হলেন।
এলাকায় বারবার একই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বাড়ির জ্যৈষ্ঠ পুত্র শ্রী রতন পোদ্দার বলেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ মন্ডলকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাবা বাড়িতে না থাকার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিষয়টি থানায় অবগত করা হয়েছে।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 





















