ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারা দেশে মাটি পরীক্ষা চলছে : কৃষিমন্ত্রী পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা! জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চগড়ে এসজিপিটি পরীক্ষায় সরকারী হাসপাতাল-প্রাইভেট ডায়াগনেস্টিক রিপোর্টে ব্যাপক গড়মিল রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ ‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী ইউক্রেনজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু সংলগ্ন রক্ষা বাঁধ। নদীর তীব্র স্রোতে সম্প্রতি বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদীর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মহিপুর এলাকার রক্ষা বাঁধে নতুন করে ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও চলতি মৌসুমের প্রবল স্রোতের সামনে তা টিকতে পারেনি। ইতোমধ্যে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদেরকে নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক আমাদের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। ভাঙন আরও বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
শিক্ষার্থী আলমগীর মিয়া জানান, সাম্প্রতিক ভাঙনের দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “নদীর কিনারা দ্রুত সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়কটি ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।”
কৃষক মোকাররম আলী বলেন, “প্রতিবছর জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারা দেশে মাটি পরীক্ষা চলছে : কৃষিমন্ত্রী

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু

আপডেট সময় ০২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু সংলগ্ন রক্ষা বাঁধ। নদীর তীব্র স্রোতে সম্প্রতি বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদীর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মহিপুর এলাকার রক্ষা বাঁধে নতুন করে ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও চলতি মৌসুমের প্রবল স্রোতের সামনে তা টিকতে পারেনি। ইতোমধ্যে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদেরকে নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক আমাদের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। ভাঙন আরও বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
শিক্ষার্থী আলমগীর মিয়া জানান, সাম্প্রতিক ভাঙনের দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “নদীর কিনারা দ্রুত সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়কটি ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।”
কৃষক মোকাররম আলী বলেন, “প্রতিবছর জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।