আবেগ আর অবুঝ জেদের চড়া মূল্য দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। বাবার রক্ত জল করা টাকায় কেনা সেই শখের মোটরসাইকেলই কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ। নওগাঁর নওহাটায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী চয়ন (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁর নওহাটা সংলগ্ন পীড়ার মোড়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ভাঙা সাইকেল চালানো বাবার কাছে দামি বাইকের জেদ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত চয়নের বাবা অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন মানুষ। যিনি নিজে একটি ব্রেকছাড়া ভাঙা বাইসাইকেল চালিয়ে টেনেটুনে সংসার চালান। নিজের সামান্য খরচের টাকাটা বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করেন তিনি। অথচ, তার ছেলে চয়ন একটি ‘সুজুকি জিক্সার’ মোটরসাইকেল কেনার জন্য টানা ২৭ দিন বাড়িতে ভাত না খেয়ে জেদ ধরে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত সন্তানের এমন অবুঝ জেদের কাছে হেরে গিয়ে, চয়নের বাবা ধার-দেনা করে ও হাড়ভাঙা খাটুনির জমানো টাকায় ছেলেকে সেই দামি মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন।
রোববার সন্ধ্যায় নওহাটার পীড়ার মোড়ে মোটরসাইকেল ও অন্য একটি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চয়নসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে চয়নের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
নিহত চয়ন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। সে সতীহাট ‘অনিক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার-মান্দা’র একজন কর্মচারী ছিল।
চয়নের এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া ফেলেছে। একই সাথে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। সচেতন মহল বলছেন “আবেগ আর জেদ দিয়ে জীবন চলে না। বাবা-মায়ের সামর্থ্য আর কষ্টটা তরুণদের বুঝতে শেখা উচিত। একটা দামি বাইকের চেয়ে সন্তানের জীবনের মূল্য বাবা-মায়ের কাছে কোটি গুণ বেশি।
গতি আর ক্ষণিকের আনন্দের চেয়ে জীবনের নিরাপত্তাই আসল। আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়।
আব্দুল মজিদ মল্লিক, নওগাঁ 




















