ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা পেতে ভোগান্তি, ৯ টায় অফিস উপস্থিত ১২ টায় নিজস্ব কারখানা অচল, ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া সেই ১৪৩ কর্মী এবার তদন্তের মুখে মো. আলমগীর কবীরকে ঘিরে নৌনিরাপত্তা বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নি‌তে ব্রুনাইকে অনু‌রোধ ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়, শীর্ষ পদে আলোচনায় যাদের নাম পবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ

ভোলায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক; হত্যার অভিযোগ পরিবারের

  • রিয়াজ ফরাজি
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৬৮৭ বার পড়া হয়েছে
ভোলার প্রাণকেন্দ্র উকিলপাড়া গোরস্থান সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে খবর পেয়ে ভোলা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত সুমাইয়া আক্তার মিতু দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ঘুইংগারহাট এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী সোহাগ মিয়া একজন ব্যবসায়ী। তাদের সংসারে প্রায় দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে ভোলা শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে বাসার দরজা বন্ধ থাকায় এবং মিতুর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ না হওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার একটি কক্ষের বিছানার ওপর মিতুর নিথর দেহ দেখতে পায়। এ সময় বাসায় তার স্বামী কিংবা অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
ভোলা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গৃহবধূর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সুমাইয়া আক্তার মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার স্বামী সোহাগ মিয়া পালিয়ে গেছেন। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা পেতে ভোগান্তি, ৯ টায় অফিস উপস্থিত ১২ টায়

ভোলায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক; হত্যার অভিযোগ পরিবারের

আপডেট সময় ০৬:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ভোলার প্রাণকেন্দ্র উকিলপাড়া গোরস্থান সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে খবর পেয়ে ভোলা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত সুমাইয়া আক্তার মিতু দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ঘুইংগারহাট এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী সোহাগ মিয়া একজন ব্যবসায়ী। তাদের সংসারে প্রায় দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে ভোলা শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে বাসার দরজা বন্ধ থাকায় এবং মিতুর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ না হওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার একটি কক্ষের বিছানার ওপর মিতুর নিথর দেহ দেখতে পায়। এ সময় বাসায় তার স্বামী কিংবা অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
ভোলা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গৃহবধূর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সুমাইয়া আক্তার মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার স্বামী সোহাগ মিয়া পালিয়ে গেছেন। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।