ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মো. আলমগীর কবীরকে ঘিরে নৌনিরাপত্তা বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নি‌তে ব্রুনাইকে অনু‌রোধ ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়, শীর্ষ পদে আলোচনায় যাদের নাম পবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ তথ্য গোপন করায় জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতায় ডিএসইকে তলব শিল্প খাতে গ্যাসসংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপরে হামলার প্রতিবাদে ববিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কুমারী এলাকাটি যেন এক অবিকল ‘সলিমপুর’যেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক পেছনের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যত অসহায় বা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এই এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের মহোৎসব, যার ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও চাষের জমি।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির একদম নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ সেখানে অভিযানে যেতে ‘ভয় পায়’ কিংবা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। দুর্গম এবং অপরাধপ্রবণ চট্টগ্রামের ‘সলিমপুর’ অঞ্চলের মতোই কুমারী এলাকার এই ফেতাইন্যাছড়া অংশটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফেতাইন্যাছড়া খাল ও এর আশপাশের কৃষিজমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ডাম্পার বোঝাই করে এই বালু পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও কৃষিজমিতে বড় বড় ধস নেমেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।একটি পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।

কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরওয়ার আলম, শ্রমিক দল সভাপতি নাজিম উদ্দীন, কুমারী এলাকার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন এবং কুমারী তৃণমূল যুবদল নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালুর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছড়া ও ফসলি জমির বুক চিরে বালু লুটে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ফাঁড়ির পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পুলিশ যেখানে অপরাধ দমনে কাজ করার কথা, সেখানে ফাঁড়ির পেছনে এই অবৈধ বালুর মেলা চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুমারী এলাকা এখন অপরাধীদের জন্য আরেক সলিমপুর হয়ে উঠেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মো. আলমগীর কবীরকে ঘিরে নৌনিরাপত্তা বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ

আপডেট সময় ০৪:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কুমারী এলাকাটি যেন এক অবিকল ‘সলিমপুর’যেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক পেছনের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যত অসহায় বা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এই এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের মহোৎসব, যার ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও চাষের জমি।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির একদম নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ সেখানে অভিযানে যেতে ‘ভয় পায়’ কিংবা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। দুর্গম এবং অপরাধপ্রবণ চট্টগ্রামের ‘সলিমপুর’ অঞ্চলের মতোই কুমারী এলাকার এই ফেতাইন্যাছড়া অংশটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফেতাইন্যাছড়া খাল ও এর আশপাশের কৃষিজমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ডাম্পার বোঝাই করে এই বালু পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও কৃষিজমিতে বড় বড় ধস নেমেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।একটি পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।

কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরওয়ার আলম, শ্রমিক দল সভাপতি নাজিম উদ্দীন, কুমারী এলাকার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন এবং কুমারী তৃণমূল যুবদল নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালুর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছড়া ও ফসলি জমির বুক চিরে বালু লুটে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ফাঁড়ির পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পুলিশ যেখানে অপরাধ দমনে কাজ করার কথা, সেখানে ফাঁড়ির পেছনে এই অবৈধ বালুর মেলা চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুমারী এলাকা এখন অপরাধীদের জন্য আরেক সলিমপুর হয়ে উঠেছে।