সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বৈরী আবহাওয়ায় ঘরমুখো যাত্রী কম, সন্ধ্যায় বাড়তে পারে চাপ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখনো তেমন যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি। বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী চলাচলে। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে এলে সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি কম। টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় কম থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন ঘাটে যাত্রীদের সারিবদ্ধভাবে লঞ্চে উঠতে দেখা যায়।

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভোলার চরফ্যাশনে যাচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত মাহমুদ। তিনি বলেন, বাসের চেয়ে লঞ্চযাত্রা আমার জন্য সুবিধাজনক। বাসে গেলে আগে বরিশাল যেতে হয়, এরপর আবার নৌপথে ভোলায় যেতে হয়। কিন্তু লঞ্চে একবার উঠলেই সরাসরি যাওয়া যায়। এবার সদরঘাটে তেমন ভিড় নেই, বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে না। আশা করি স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।

বরিশালগামী যাত্রী আসিফ বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চে যাত্রা আরামদায়ক, তাই আমার মতো অনেকেই লঞ্চকে বেছে নিচ্ছেন। লঞ্চে ভাড়া আগের মতোই রয়েছে। গুলিস্তান থেকে রায় সাহেব বাজার পর্যন্ত বাসে এলেও পরের রাস্তাটুকু বিকল্প যান হিসেবে রিকশা করে আসতে হয়। অনেককেই হেঁটে সদরঘাট আসতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি ছাড়া ঈদযাত্রা স্বস্তিরই বলা চলে।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাগামী গাজী সালাউদ্দিন লঞ্চের সুপারভাইজার লিটন বলেন, আজকে অফিস-আদালত বন্ধ হওয়ায় যাত্রীচাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম যাত্রী এসেছেন। আগামীকাল আরও বাড়বে বলে আশা করছি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সড়কপথের তুলনায় নৌপথ অনেক স্বস্তিদায়ক যাত্রা আরামদায়ক ও ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় যাত্রীদের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

লঞ্চ ভাড়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভাড়া নিয়ে তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সদরঘাটে দায়িত্ব পালনরত বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আজ ৮০টিরও বেশি লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনাল ত্যাগ করবে। চাঁদপুর, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৩টি রুটে এসব লঞ্চ চলাচল করবে। এখনো যাত্রীর চাপ কম থাকলেও সন্ধ্যার পর চাপ বাড়তে পারে। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদেরও টার্মিনালে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লঞ্চ মালিকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের আগের শেষ দুই দিনে সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

বৈরী আবহাওয়ায় ঘরমুখো যাত্রী কম, সন্ধ্যায় বাড়তে পারে চাপ

আপডেট সময় ০৪:৩২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখনো তেমন যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি। বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী চলাচলে। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে এলে সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি কম। টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় কম থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন ঘাটে যাত্রীদের সারিবদ্ধভাবে লঞ্চে উঠতে দেখা যায়।

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভোলার চরফ্যাশনে যাচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত মাহমুদ। তিনি বলেন, বাসের চেয়ে লঞ্চযাত্রা আমার জন্য সুবিধাজনক। বাসে গেলে আগে বরিশাল যেতে হয়, এরপর আবার নৌপথে ভোলায় যেতে হয়। কিন্তু লঞ্চে একবার উঠলেই সরাসরি যাওয়া যায়। এবার সদরঘাটে তেমন ভিড় নেই, বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে না। আশা করি স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।

বরিশালগামী যাত্রী আসিফ বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চে যাত্রা আরামদায়ক, তাই আমার মতো অনেকেই লঞ্চকে বেছে নিচ্ছেন। লঞ্চে ভাড়া আগের মতোই রয়েছে। গুলিস্তান থেকে রায় সাহেব বাজার পর্যন্ত বাসে এলেও পরের রাস্তাটুকু বিকল্প যান হিসেবে রিকশা করে আসতে হয়। অনেককেই হেঁটে সদরঘাট আসতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি ছাড়া ঈদযাত্রা স্বস্তিরই বলা চলে।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাগামী গাজী সালাউদ্দিন লঞ্চের সুপারভাইজার লিটন বলেন, আজকে অফিস-আদালত বন্ধ হওয়ায় যাত্রীচাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম যাত্রী এসেছেন। আগামীকাল আরও বাড়বে বলে আশা করছি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সড়কপথের তুলনায় নৌপথ অনেক স্বস্তিদায়ক যাত্রা আরামদায়ক ও ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় যাত্রীদের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

লঞ্চ ভাড়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভাড়া নিয়ে তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সদরঘাটে দায়িত্ব পালনরত বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আজ ৮০টিরও বেশি লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনাল ত্যাগ করবে। চাঁদপুর, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৩টি রুটে এসব লঞ্চ চলাচল করবে। এখনো যাত্রীর চাপ কম থাকলেও সন্ধ্যার পর চাপ বাড়তে পারে। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদেরও টার্মিনালে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লঞ্চ মালিকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের আগের শেষ দুই দিনে সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।