ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক

লেবাননে আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১০

আবারও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার নতুন করে হামলা চালানোর আগে পৃথক আরেকটি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বৈরুত সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

নতুন হামলাগুলো সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন একটি এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে দক্ষিণ লেবাননের ব্রিতাল এলাকার পার্বত্য নাবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এলাকাটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে আঘাত হানে, পরে শহরের ভেতরেও আরেকটি হামলা হয়।

হামলার আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ী দুটি সতর্কবার্তা জারি করেন। একটিতে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রহাল গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়, কারণ সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানানো হয়।

অন্য সতর্কবার্তায় টাইরের দুটি এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকাগুলো হিজবুল্লাহর ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে অভিযান চালানো হতে পারে।

এ হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন উদ্ধারকর্মী এবং একটি শিশু রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের কাছে ডেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় দুইজন উদ্ধারকর্মী ও এক সিরীয় কিশোরী নিহত হন।

নিহত উদ্ধারকর্মীরা রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন, যা আমাল আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হানাওয়াইয়ে আরেক হামলায় আরও চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। তারা ইসলামিক হেলথ কমিটির সদস্য ছিলেন, যা হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সশস্ত্র অবস্থায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলাফেরা করছিলেন। নজরদারির পর বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা লেবাননের ভেতরে ও উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটির সংসদীয় ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ এক বিবৃতিতে বলেন, যোদ্ধাদের শক্তি ও সাহসের কারণে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধমূলকভাবে লেবাননের গ্রাম ধ্বংস করছে এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট নয়জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে লেবাননের দুই সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, এসব অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংঘাতের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। ইরানের এক শীর্ষ নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করে।

জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে। বর্তমানে সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, এ সংঘাতে তাদের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনার পর ৪৫ দিনের জন্য একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এ আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী

লেবাননে আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১০

আপডেট সময় ১২:৫০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

আবারও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার নতুন করে হামলা চালানোর আগে পৃথক আরেকটি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বৈরুত সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

নতুন হামলাগুলো সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন একটি এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে দক্ষিণ লেবাননের ব্রিতাল এলাকার পার্বত্য নাবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এলাকাটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে আঘাত হানে, পরে শহরের ভেতরেও আরেকটি হামলা হয়।

হামলার আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ী দুটি সতর্কবার্তা জারি করেন। একটিতে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রহাল গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়, কারণ সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানানো হয়।

অন্য সতর্কবার্তায় টাইরের দুটি এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকাগুলো হিজবুল্লাহর ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে অভিযান চালানো হতে পারে।

এ হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন উদ্ধারকর্মী এবং একটি শিশু রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের কাছে ডেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় দুইজন উদ্ধারকর্মী ও এক সিরীয় কিশোরী নিহত হন।

নিহত উদ্ধারকর্মীরা রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন, যা আমাল আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হানাওয়াইয়ে আরেক হামলায় আরও চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। তারা ইসলামিক হেলথ কমিটির সদস্য ছিলেন, যা হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সশস্ত্র অবস্থায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলাফেরা করছিলেন। নজরদারির পর বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা লেবাননের ভেতরে ও উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটির সংসদীয় ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ এক বিবৃতিতে বলেন, যোদ্ধাদের শক্তি ও সাহসের কারণে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধমূলকভাবে লেবাননের গ্রাম ধ্বংস করছে এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট নয়জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে লেবাননের দুই সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, এসব অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংঘাতের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। ইরানের এক শীর্ষ নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করে।

জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে। বর্তমানে সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, এ সংঘাতে তাদের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনার পর ৪৫ দিনের জন্য একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এ আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।