রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক মো. লিটন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, উচ্ছেদ অভিযানের আড়ালে অনৈতিক সমঝোতা, সন্দেহজনক খাম লেনদেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুলশান এলাকায় পরিচালিত একটি উচ্ছেদ অভিযানের পর তার গোপন বৈঠক, অস্বাভাবিক আচরণ, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ এখন প্রশাসনিক মহল, আইন অঙ্গন এবং দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিজস্ব বক্তব্য এবং আইন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন এক চিত্র, যা শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং রাজউকের দীর্ঘদিনের জবাবদিহিহীন প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রতিফলন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকায় রাজউকের একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন মো. লিটন সরকার। অভিযানে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অনুমোদনবহির্ভূত অংশে ভাঙচুর চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযান প্রায়ই প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক আর্থিক সমঝোতার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদের আগে ও পরে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগ তৈরি হয়, যার মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতা, সময় বৃদ্ধি কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ বহুদিনের। যদিও এসব অভিযোগ বেশিরভাগ সময় প্রমাণের অভাবে চাপা পড়ে যায়।
এই অভিযানের পর মো. লিটন সরকারের গতিবিধি অনুসরণ করে দেখা যায়, অফিস শেষে তিনি সরাসরি বাসায় না গিয়ে কৌশলে পথ পরিবর্তন করেন। একাধিকবার যানবাহন বদল ও অবস্থান পরিবর্তনের পর তিনি সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। সেখানে অপেক্ষমাণ এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি নির্জন স্থানে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি তার হাতে একটি চারকোনা ও অস্বাভাবিকভাবে মোটা খাম তুলে দেন। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, খামটি হাতে নিয়েই তিনি সেটি না খুলে দ্রুত নিজের কোটের পকেটে রেখে দেন এবং চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন।
ঘটনার ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খামটির আকার সাধারণ অফিসিয়াল ডকুমেন্ট বহনের খামের মতো নয়। এটি ছিল ছোট আকৃতির কিন্তু তুলনামূলকভাবে মোটা ও ফুলে থাকা ধরনের। ভিডিও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের খামের গঠন অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বহনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে সরাসরি অর্থ লেনদেনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না, তবে ঘটনাপ্রবাহ, আচরণগত বৈশিষ্ট্য এবং পরবর্তী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে প্রথমদিকে মো. লিটন সরকার পুরো ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ভিডিও দেখানো হলে তিনি খাম গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। তবে সেটিকে ঘুষ নয় দাবি করে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত এক রেস্টুরেন্ট মালিক আদালতের একটি আদেশ নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তার ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তি আদালতের আদেশ সংক্রান্ত একটি আবেদন তাকে দেন এবং তিনি রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন।
কিন্তু এখানেই দেখা দেয় সবচেয়ে বড় অসংগতি। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, তিনি খামটি খোলেননি। অথচ পরে তিনি নিশ্চিতভাবে দাবি করেন, সেখানে আদালতের আদেশ ছিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো খাম না খুলে তার ভেতরে কী আছে তা নিশ্চিত হওয়া এবং সেই নথির ভিত্তিতে প্রশাসনিক পরামর্শ দেওয়া যুক্তিগতভাবে অসম্ভব। তারা বলছেন, এই বক্তব্য নিজেই তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একজন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বলেন, “যদি আদালতের আদেশই হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কেন অফিসিয়াল চ্যানেলে জমা দেওয়া হলো না? রাজউকের আইন শাখা, ডায়েরি শাখা এবং রেকর্ড রুম রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগতভাবে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আদালতের নথি গ্রহণ করার কোনো বিধান নেই। আর খাম না খুলে তিনি যদি নিশ্চিত হন ভেতরে কী আছে, তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।”
আরেকজন প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, “এখানে শুধু ঘুষের অভিযোগ নয়, বরং বিচারিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, তখন তিনি কার্যত রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরবর্তীতে ব্যক্তিগত বা গোপন যোগাযোগ করা প্রশাসনিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮—সবগুলো নীতিমালার আলোকে এই ঘটনা মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। এমনকি দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রথমদিকে ছবি দেখিয়ে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে বলা হলে মো. লিটন সরকার তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। কিন্তু ভিডিও দেখানোর পর বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তিনি পূর্বপরিচিত। পরে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি একজন রেস্টুরেন্ট মালিক। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তিনি ওই ব্যক্তির নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা কিংবা যোগাযোগ নম্বর কিছুই প্রকাশ করতে রাজি হননি। এমনকি যাকে নিজের পক্ষে সম্ভাব্য সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করছিলেন, তার পরিচয়ও গোপন রাখেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি এটি সত্যিই আদালতের আদেশ সংক্রান্ত বৈধ যোগাযোগ হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তার উচিত ছিল ব্যক্তিটিকে অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দিতে বলা এবং ভবিষ্যতের সব যোগাযোগ লিখিত রেকর্ডে রাখা।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লিটন সরকার নিজেই স্বীকার করেছেন যে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানে অনেক সময় অনিয়ম হয় এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে। যদিও তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে সতর্ক থাকেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, একজন কর্মকর্তা যদি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম সম্পর্কে জানেন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? কেন কোনো লিখিত অভিযোগ, তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায় না?
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অদৃশ্য আর্থিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। অবৈধ অংশ ভাঙা, সময় বাড়ানো, পুনঃসংযোগ, পুনঃনির্মাণে নীরব সম্মতি কিংবা ভবিষ্যৎ অভিযানে ছাড় দেওয়ার মতো বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ বহুদিনের। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ তৈরি হয়।
একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “উচ্ছেদ অভিযান মানেই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, এর পেছনে অনেক ধরনের দরকষাকষিও চলে। কখনও সময় নেওয়া, কখনও আংশিক ছাড়, কখনও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা—এসব নিয়ে অনেক যোগাযোগ হয়।”
ঘটনার পর রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু এর অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কল করেন মো. লিটন সরকার। ফোনালাপে তিনি নিজেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার কণ্ঠস্বর ও কথাবার্তায় স্পষ্ট চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত ছিল।
ফোনালাপে তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে তিনি চাইলে সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে পারবেন। কিন্তু প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নাম, প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ নম্বর জানতে চাইলে তিনি তা প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান। এতে পুরো ঘটনাকে ঘিরে সন্দেহ আরও গভীর হয়।
একজন সাবেক সচিব বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা সত্যিই নির্দোষ হন, তাহলে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তথ্য গোপন করা বা পরিচয় আড়াল করা সাধারণত সন্দেহ বাড়ায়।”

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় শুধু ভিডিও নয়, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল কললিস্ট, লোকেশন ট্র্যাকিং, ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসতে পারে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতির মামলায় অনেক সময় সরাসরি ঘুষ উদ্ধার হয় না। কিন্তু পরিস্থিতিগত প্রমাণ, আচরণগত অসংগতি, ডিজিটাল উপাত্ত এবং সাক্ষ্য মিলিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হতে পারে।”
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আচরণগত মানদণ্ড। কারণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতীকও বটে। তার প্রতিটি আচরণ জনগণের কাছে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বহন করে। সেখানে গোপনে খাম গ্রহণ, পরে অস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
রাজউকে এর আগেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে গুলশানে রাজউক চেয়ারম্যানের সরকারি বাংলো সংস্কার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে আসে, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সংস্কার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল। প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্ভাব্য কাজের ব্যয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণেই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজেদের প্রায় অপ্রতিরোধ্য মনে করতে শুরু করেছেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা দুর্বল হলে অনিয়মকে অনেকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
মানবাধিকারকর্মী ও সুশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। তারা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
এখন পর্যন্ত রাজউকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা যায়নি। তবে প্রশাসনিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি নিজ দায়িত্বাধীন উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষভুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেন, খাম গ্রহণ করেন, পরে তার ব্যাখ্যায় অসংগতি ধরা পড়ে এবং তথ্য গোপন করেন—তাহলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রতি জনগণের আস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এখন নজর রাজউক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুদকের দিকে। তারা এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















