ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

পুষ্পধারা হাউজিংয়ের আড়ালে মনির-জুলফিকারের ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ

পুষ্পধারা হাউজিংয়ের আড়ালে মনির, জুলফিকার, ও দালাল রাজের প্রতারণার ফাঁদ প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার বিচার দাবিতে দুদকে অভিযোগ করলেন ভুক্তভোগী। পুষ্পধারা হাউজিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন, দালালচক্র পরিচালনা ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছে রাজধানীর মীর হাজারিবাগ এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ আলম। একই সাথে পূষ্পধারা হাউজিং এর আড়ালে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে ঠকানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পূষ্পধারা হাউজিং এর পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকার আলি ও দালাল খায়রুল আলম রাজের বিরুদ্ধেও।

ওদিকে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মালিবাগে অবস্থিত পুষ্পধারা হাউজিংয়ের করপোরেট অফিসকে কেন্দ্র করে মনিরুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র গ্রাহকদের “বিশেষ সুবিধায়” ও “নিশ্চিত প্লট” দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব অর্থ অফিসিয়াল হিসাবের বাইরে নেওয়া হয় এবং গ্রাহকদের কোনো বৈধ রশিদ দেওয়া হয় না। পরে গ্রাহকদের এমন জমি দেখানো হয়, যা প্রকল্পভুক্ত নয় কিংবা অন্যের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বরাত দিয়ে দুদকে বলা হয়েছে, টাকা ফেরত চাইলে সময়ক্ষেপণ, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে অনেক গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

দুদকে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ অফিসের ভেতরে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যা সরাসরি মনিরুজ্জামানের প্রভাব ও আশ্রয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য বিলাসবহুল অফিস, চটকদার প্রচারণা এবং উচ্চপর্যায়ের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব, উৎস ও ব্যবহার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, এই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের বড় অংশ গোপনে পরিচালিত হয়েছে।

দুদকে দেওয়া আবেদনে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জরুরি অনুসন্ধান শুরু, তার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং মালিবাগ অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া তদন্ত চলাকালে প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে মনিরুজ্জামানের কার্যক্রম নজরদারিতে আনা এবং প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধও করা হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

পুষ্পধারা হাউজিংয়ের আড়ালে মনির-জুলফিকারের ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পুষ্পধারা হাউজিংয়ের আড়ালে মনির, জুলফিকার, ও দালাল রাজের প্রতারণার ফাঁদ প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার বিচার দাবিতে দুদকে অভিযোগ করলেন ভুক্তভোগী। পুষ্পধারা হাউজিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন, দালালচক্র পরিচালনা ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছে রাজধানীর মীর হাজারিবাগ এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ আলম। একই সাথে পূষ্পধারা হাউজিং এর আড়ালে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে ঠকানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পূষ্পধারা হাউজিং এর পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকার আলি ও দালাল খায়রুল আলম রাজের বিরুদ্ধেও।

ওদিকে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মালিবাগে অবস্থিত পুষ্পধারা হাউজিংয়ের করপোরেট অফিসকে কেন্দ্র করে মনিরুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র গ্রাহকদের “বিশেষ সুবিধায়” ও “নিশ্চিত প্লট” দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব অর্থ অফিসিয়াল হিসাবের বাইরে নেওয়া হয় এবং গ্রাহকদের কোনো বৈধ রশিদ দেওয়া হয় না। পরে গ্রাহকদের এমন জমি দেখানো হয়, যা প্রকল্পভুক্ত নয় কিংবা অন্যের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বরাত দিয়ে দুদকে বলা হয়েছে, টাকা ফেরত চাইলে সময়ক্ষেপণ, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে অনেক গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

দুদকে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ অফিসের ভেতরে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যা সরাসরি মনিরুজ্জামানের প্রভাব ও আশ্রয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য বিলাসবহুল অফিস, চটকদার প্রচারণা এবং উচ্চপর্যায়ের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব, উৎস ও ব্যবহার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, এই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের বড় অংশ গোপনে পরিচালিত হয়েছে।

দুদকে দেওয়া আবেদনে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জরুরি অনুসন্ধান শুরু, তার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং মালিবাগ অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া তদন্ত চলাকালে প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে মনিরুজ্জামানের কার্যক্রম নজরদারিতে আনা এবং প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধও করা হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।