ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

রাতের আঁধারে তিস্তার বুক ক্ষতবিক্ষত; গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এক সময় এই স্লোগান দিয়ে যারা তিস্তা নদী রক্ষার ডাক দিয়েছিল, আজ স্বার্থের নেশায় তারাই তিস্তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে নদী তীরের শত শত বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
‎​
‎​সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোয় শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু খেকো চক্রটি। শক্তিশালী ড্রেজার ও ভ্যাকু মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় যারা নদী রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাদের ছত্রছায়াতেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
‎​গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রভাব
‎​বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এর মর্নেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশাল বিশাল ট্রাক্টর (ট্রলি) দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন।
‎​
‎​নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগাম ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে এবং তাদের অবশিষ্ট আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
‎​
‎​স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করলে তিস্তা নদীকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
‎​
‎তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার আধার। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নদীর অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে তিস্তাকে তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে দিতে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

রাতের আঁধারে তিস্তার বুক ক্ষতবিক্ষত; গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৭:০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এক সময় এই স্লোগান দিয়ে যারা তিস্তা নদী রক্ষার ডাক দিয়েছিল, আজ স্বার্থের নেশায় তারাই তিস্তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে নদী তীরের শত শত বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
‎​
‎​সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোয় শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু খেকো চক্রটি। শক্তিশালী ড্রেজার ও ভ্যাকু মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় যারা নদী রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাদের ছত্রছায়াতেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
‎​গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রভাব
‎​বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এর মর্নেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশাল বিশাল ট্রাক্টর (ট্রলি) দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন।
‎​
‎​নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগাম ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে এবং তাদের অবশিষ্ট আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
‎​
‎​স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করলে তিস্তা নদীকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
‎​
‎তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার আধার। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নদীর অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে তিস্তাকে তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে দিতে।