ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসনের অন্যতম হরণকারী মাখনলালের পা ছুঁয়ে সালাম মোদির

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে এক বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গেছে, ৯৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম মাখনলাল।
মোদি পা ছুঁয়ে সালাম করার পর তাকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। জানা যায়, তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন হরণকারীদেরও একজন তিনি।
দেশভাগের পর জম্মু ও কাশ্মির ছিল একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল। সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজের মানুষেরও অনুমতির প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু ১৯৫৩ সালে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি নামে এক ব্যক্তি এটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তারা কাশ্মিরেও ভারতের পূর্ণ শাসন চালুর দাবি করেন। এর অংশ হিসেবে শ্যামা প্রসাদ ও মাখনলালসহ আরও অনেকে অনুমতি ছাড়া কাশ্মিরে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই গ্রেপ্তার অবস্থায়ই শ্যামা প্রসাদের মৃত্যু হয়। অপরদিকে মাখনলাল জেল খেটে ফিরে আসেন।
কাশ্মিরি কারাগারে শ্যামা প্রসাদের মৃত্যুর বিষয়টি অন্যতম রাজনৈতিক আলোচ্যবিষয়ে পরিণত হয়। এর ফলে ১৯৫৯ সালে ভারতীয়দের কাশ্মিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে পারমিট সিস্টেম বাতিল করা হয়। এরপর থেকে ভারতীয় সরকার সেখানে শুধু নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
সর্বশেষ ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করেন। এর ফলে কাশ্মির তার স্বায়ত্ত্বশাসন হারায় এবং এটি ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর মতো সাধারণ রাজ্যে পরিণত হয়।
এখন ভারতের অন্যান্য জায়গার মানুষও সেখানে গিয়ে জমি কিনতে পারেন। যা আগে শুধুমাত্র কাশ্মিরিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এদিকে মোহনলালকে একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন মোদি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের এই বিশেষ দিনে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। দেশ এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তার যে অসামান্য অবদান, তা আমাদের সকলের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তার স্বপ্নপূরণে আমরা কোনো চেষ্টারই কমতি রাখব না।”
“কলকাতায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখন লাল সরকারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো। অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী এ মানুষটি ড. শ্যামা প্রসাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকি জম্মু-কাশ্মিরে ড. শ্যামা প্রসাদের সফরসঙ্গী হিসেবে তিনিও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসনের অন্যতম হরণকারী মাখনলালের পা ছুঁয়ে সালাম মোদির

আপডেট সময় ০৬:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে এক বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গেছে, ৯৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম মাখনলাল।
মোদি পা ছুঁয়ে সালাম করার পর তাকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। জানা যায়, তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন হরণকারীদেরও একজন তিনি।
দেশভাগের পর জম্মু ও কাশ্মির ছিল একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল। সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজের মানুষেরও অনুমতির প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু ১৯৫৩ সালে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি নামে এক ব্যক্তি এটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তারা কাশ্মিরেও ভারতের পূর্ণ শাসন চালুর দাবি করেন। এর অংশ হিসেবে শ্যামা প্রসাদ ও মাখনলালসহ আরও অনেকে অনুমতি ছাড়া কাশ্মিরে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই গ্রেপ্তার অবস্থায়ই শ্যামা প্রসাদের মৃত্যু হয়। অপরদিকে মাখনলাল জেল খেটে ফিরে আসেন।
কাশ্মিরি কারাগারে শ্যামা প্রসাদের মৃত্যুর বিষয়টি অন্যতম রাজনৈতিক আলোচ্যবিষয়ে পরিণত হয়। এর ফলে ১৯৫৯ সালে ভারতীয়দের কাশ্মিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে পারমিট সিস্টেম বাতিল করা হয়। এরপর থেকে ভারতীয় সরকার সেখানে শুধু নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
সর্বশেষ ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করেন। এর ফলে কাশ্মির তার স্বায়ত্ত্বশাসন হারায় এবং এটি ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর মতো সাধারণ রাজ্যে পরিণত হয়।
এখন ভারতের অন্যান্য জায়গার মানুষও সেখানে গিয়ে জমি কিনতে পারেন। যা আগে শুধুমাত্র কাশ্মিরিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এদিকে মোহনলালকে একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন মোদি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের এই বিশেষ দিনে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। দেশ এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তার যে অসামান্য অবদান, তা আমাদের সকলের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তার স্বপ্নপূরণে আমরা কোনো চেষ্টারই কমতি রাখব না।”
“কলকাতায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখন লাল সরকারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো। অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী এ মানুষটি ড. শ্যামা প্রসাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকি জম্মু-কাশ্মিরে ড. শ্যামা প্রসাদের সফরসঙ্গী হিসেবে তিনিও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।”