ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। মোহন শেখের মৃত্যুর পরে হামলা-মামলার ভয়ে গ্রামের এক পক্ষের লোকজন এখন গ্রাম ছাড়া। পুলিশের সহযোগিতায় কিছু কিছু পরিবার তাদের গবাদিপশু গ্রাম থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখছেন।
মোহন শেখের হত্যার ঘটনায় তার ছেলে আবদুর রশীদ শেখ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলার ৪ নম্বর আসামি সের আলী মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। এজাহারে নাম না থাকলেও এই ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীকেও আটক করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ।
আবুল বাশার তরিকুল সাদাত বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর গত কয়েকদিনে মোহন শেখের সমর্থকরা তাদের প্রায় ৩০ সমর্থকের ৪০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করেছেন। প্রায় ৬৫টি গরু ছাগল লুট করা হয়েছিল। এরমধ্যে কিছু সংখ্যক গাবাদিপশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমাদের প্রায় ৩০০ পুরুষ সমর্থক বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছে।
জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী জানান, মোহন শেখ হত্যার পর মোহন শেখের বাড়িসহ তার ১৬ সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সাদাতের সমর্থকরা। তিনি আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গরু লুটের অভিযোগও ভিত্তিহীন। হত্যার দিন থেকেই গ্রামে পুলিশ আছে। আর আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।
শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার দিনেই ওই গ্রামের উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টির মতো বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর আর কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রতিনিধি 










