ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে মারধর, চার দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু বড়লেখায় ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার সকাল ১০টায়, যেভাবে জানা যাবে রিজভীর বক্তব্য ‘মিথ্যা’, সালমান শাহর মৃ’ত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ববিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ বাংলাদেশিকে বিএসএফ নিয়ে যাওয়ায় ভারতীয়কে ধরে আনলো গ্রামবাসী মারা গেলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির বাবা পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

এলজিইডি বরগুনায় ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ প্রকৌশলী রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরগুনা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।
জানা যায়, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩) এর আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র-কাম বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ গ্রহণ করেন এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন।
এছাড়া ইসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাঁশবুনিয়া, লাঙ্গলকাটা, পুরাকাটা ও রায়েরতবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, অল্প বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে, যা শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক উন্নয়ন কাজেও ব্যাপক অনিয়ম করেছেন এই প্রকৌশলী। গর্জনবুনিয়া থেকে বাবুগঞ্জ বাজার সংযোগ সড়কের ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রাক্কলন তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া কোনো কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং নিম্নমানের কাজের কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব দুর্নীতির টাকায় আবদুর রাজ্জাক বরগুনা, পটুয়াখালী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রাজ্জাক বলেন, “কিছু অসাধু ঠিকাদার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগগুলো লিখিত আকারে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম

এলজিইডি বরগুনায় ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ প্রকৌশলী রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।
জানা যায়, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩) এর আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র-কাম বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ গ্রহণ করেন এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন।
এছাড়া ইসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাঁশবুনিয়া, লাঙ্গলকাটা, পুরাকাটা ও রায়েরতবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, অল্প বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে, যা শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক উন্নয়ন কাজেও ব্যাপক অনিয়ম করেছেন এই প্রকৌশলী। গর্জনবুনিয়া থেকে বাবুগঞ্জ বাজার সংযোগ সড়কের ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রাক্কলন তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া কোনো কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং নিম্নমানের কাজের কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব দুর্নীতির টাকায় আবদুর রাজ্জাক বরগুনা, পটুয়াখালী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রাজ্জাক বলেন, “কিছু অসাধু ঠিকাদার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগগুলো লিখিত আকারে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।